NEET বিতর্কের মধ্যেই NTA-কে চরম নির্দেশ সংসদের! ‘খাতা-কলম’-এর পরীক্ষা ফেরাতে হবে, CBT নিয়ে কড়া সুপারিশ স্থায়ী কমিটির!

প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে জাতীয় পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে যখন উদ্বেগ তুঙ্গে, ঠিক তখনই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে তাদের মূল নীতিতে বড় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির স্পষ্ট সুপারিশ, কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) নয়, বরং খাতা-কলমের (Pen and paper exam) পরীক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ দিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি সোমবার সংসদে তাদের বিশদ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির মতে, ইউপিএসসি (UPSC) এবং সিবিএসই-র (CBSE) বোর্ড পরীক্ষার মতো খাতা-কলমের মডেল ভারতে বহু বছর ধরে সফল এবং নির্ভুলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
CBT কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—খাতা-কলমের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা থাকলেও CBT-তে এমনভাবে হ্যাকিংয়ের ভয় থাকে, যার চিহ্ন শনাক্ত করা প্রায় কঠিন। কমিটি যদিও সম্পূর্ণভাবে CBT বাতিলের কথা বলেনি, তবে সুপারিশ করেছে, যদি অনলাইন পরীক্ষা চালু রাখতেই হয়, তবে তা শুধুমাত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজন করা উচিত, যাতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমে।
বিশেষত ২০২৪ সালের NEET পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে এনটিএ-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পরই এই সুপারিশগুলি এসেছে। কমিটি জানিয়েছে—গত বছর এনটিএ-র নেওয়া ১৪টি পরীক্ষার মধ্যে ৫টিতে বড় সমস্যা দেখা গিয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি স্থগিত রাখতে হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের ভরসা পুনরুদ্ধার করতে এনটিএ-কে দ্রুত নিজের নজরদারি শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। এই সুপারিশ প্রাক্তন ইসরো প্রধান কে. রাধাকৃষ্ণনের কমিটির সঙ্গে সরাসরি মতবিরোধ তৈরি করল, কারণ সেই কমিটি জাতীয় পরীক্ষা ধীরে ধীরে CBT-তে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিল।
৪৪৮ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত ও CUET ফল প্রকাশে দেরি
স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে এনটিএ-র আর্থিক দিকও। গত ছয় বছরে সংস্থাটি প্রায় ৩,৫১২.৯৮ কোটি টাকা আয় করলেও, হাতে জমেছে ৪৪৮ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তহবিল। কমিটি সুপারিশ করেছে, এই বিশাল উদ্বৃত্ত অর্থ পরীক্ষাব্যবস্থা ও নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা উচিত।
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—CUET পরীক্ষার ফল ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া ও সেশন শুরু হতে দেরি ঘটাচ্ছে, যা ছাত্রছাত্রীদের ওপর অযথা মানসিক চাপ তৈরি করছে। তাই ফলপ্রকাশের সময়সীমা নির্দিষ্ট ও দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোচিং সেন্টার ও NAAC দুর্নীতিতে কড়া হস্তক্ষেপ
কোচিং ইন্ডাস্ট্রি: কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সিলেবাস স্কুল কারিকুলাম থেকে সরে যাওয়ায় কোচিং ইন্ডাস্ট্রি দ্রুত ফুলেফেঁপে উঠছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষামন্ত্রক ও এনটিএ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—পরীক্ষার প্রশ্ন যেন স্কুলের পাঠক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কোচিং সেন্টারের লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে নিয়ন্ত্রণ আনতে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
NAAC ঘুষকাণ্ড: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মূল্যায়ন সংস্থা NAAC-এর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর কমিটি পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ তদন্তের সুপারিশ করেছে। এই রিপোর্ট সংসদীয় কমিটির সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। ঘুষকাণ্ডের পর NAAC প্রায় ৯০০ জন পিয়ার অ্যাসেসরকে বাদ দিয়েছে। কমিটি এই পদক্ষেপগুলির যথাযথ ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফেরে।
চলতি বিতর্ক ও প্রশ্নের আবহে সংসদীয় কমিটির এই প্রস্তাবগুলি জাতীয় পরীক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে শিক্ষাজগৎ।