ডান্স ফ্লোরে ১০০ জন! গোয়ার নাইটক্লাবে আগুন লাগতেই পর্যটকরা ছুটলেন রান্নাঘরে, তারপরই ২৫ জনের মৃত্যু!

উত্তর গোয়ার আরপোরায় ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। হায়দরাবাদ থেকে আগত এক প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটক, ফাতিমা শেখ সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় ক্লাবের ডান্স ফ্লোরে কমপক্ষে ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন।
ফাতিমা শেখ বলেন, “সপ্তাহ শেষের দিন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভিড় বেশি ছিল। আগুনের শিখা বের হতে শুরু করলে হঠাৎ হট্টগোল শুরু হয়। পালানোর চেষ্টায়, কিছু পর্যটক নিচতলায় থাকা রান্নাঘরের দিকে দৌঁড়ে যায় এবং সেখানেই কর্মীদের সঙ্গে তারা আটকে পড়েন।” তিনি আরও বলেন, দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণ হলো ক্লাবের কাঠামো তালপাতা দিয়ে তৈরি ছিল, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে তা ছাই হয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার মধ্যরাতের পর সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগেছে। তবে ফাতিমার মতো কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ক্লাবের প্রথম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, যেখানে পর্যটকরা নাচছিলেন।
তল্লাশি ও তদন্তে গাফিলতি:
ক্লাবটি আরপোরা নদীর তলদেশে অবস্থিত ছিল এবং এর প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানান, সরু গলির কারণে দমকল ট্যাঙ্কারগুলিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পার্ক করতে হয়েছিল। সংকীর্ণ প্রবেশপথের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।
এদিকে, আরপোরা-নাগোয়া পঞ্চায়েতের প্রধান রোশন রেডকার জানিয়েছেন, ক্লাবটি পরিচালনার জন্য সৌরভ লুথরার নির্মাণের অনুমতিই ছিল না। পঞ্চায়েত এটি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করলেও, পঞ্চায়েত অধিদফতরের আধিকারিকরা তা স্থগিত করে দেন। রোশন রেডকার বলেন, “যাদের বৈধ অনুমতি নেই, আমরা তাদের নোটিশ দিয়েছি। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।”
ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্যালাঙ্গুটের বিধায়ক মাইকেল লোবো ঘোষণা করেন, সমস্ত নাইটক্লাবের অগ্নি নিরাপত্তা নিরীক্ষা (ফায়ার সেফটি অডিট) করা হবে। সোমবার ক্যালাঙ্গুট পঞ্চায়েত সমস্ত নাইটক্লাবকে নোটিশ জারি করবে এবং প্রয়োজনীয় অগ্নি নিরাপত্তার অনুমতি দেখাতে না পারলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।