ডিমে আট টাকা খরচ, বরাদ্দ মাত্র সাড়ে ছ’টাকা! বাজারদরের চাপে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মিড-ডে মিল বন্ধের আশঙ্কা

ডিমের বাজারদর ৮ টাকায় পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে মিড-ডে মিলের (Mid Day Meal) ক্ষেত্রে এক বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ এখনও সাড়ে ৬ টাকায় স্থির থাকায়, কর্মীদের পক্ষে দৈনন্দিন খাবারে ডিম জোগানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণে শিশুদের পুষ্টির জোগান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা।
মালবাজারে চড়া ডিমের দাম:
মালবাজারে ডিমের দাম বেড়ে আট টাকা হওয়ার পর থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে মিড-ডে মিলে ডিম সরবরাহ নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। কর্মী-সহায়িকাদের বক্তব্য, সরকারি বরাদ্দ মাত্র সাড়ে ছ’টাকা হওয়ায় এই দামে বাজার থেকে ডিম কেনা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা দ্রুত বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।
বুধবার ইন্ডিপেন্ডেন্ট অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা আইসিডিএস মালবাজার দপ্তরে হাজির হয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত আইসিডিএস কার্যালয়ে তাঁরা দাবি জানান, বাজারদর অনুযায়ী ডিমের মূল্য নির্ধারণ করা এবং মায়েদের পুষ্টি বিকাশ প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।
সংগঠনের তরফে নবনীতা মজুমদার বলেন, “বাজারে ডিম আট টাকা, কিন্তু বরাদ্দ সাড়ে ছ’টাকা। এভাবে কীভাবে ডিম কিনব?” তিনি জানান, ডিম না পেলে অভিভাবকেরা সরাসরি অভিযোগ করছেন, যার ফল ভুগতে হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের।
ডেপুটেশন প্রসঙ্গে আইসিডিএস মালবাজার ব্লকের আধিকারিক সায়ক দাস বলেন, “ডিমের দাম বাড়ার বিষয়টি আগেই ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। আজ ফের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি উঠেছে। বিষয়টি আবারও গুরুত্ব দিয়ে পাঠানো হবে।”
মোবাইল ফোন কেনা নিয়েও নতুন সমস্যা:
ডিমের সংকটের পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য মোবাইল ফোন কেনা নিয়েও নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার প্রতিটি কর্মীর অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা জমা করলেও, তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট দাম ও প্রযুক্তিগত মান মেনে ফোন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
নবনীতা মজুমদার জানান, “মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে কিছু নির্দেশিকা এসেছে। কিন্তু নভেম্বর শেষ হয়ে গেলেও কোনও কিছু বাস্তবে কার্যকর হয়নি।” এই বিষয়ে আধিকারিক সায়ক দাস বলেন, “ফোন সংক্রান্ত সমস্যা ঊর্ধ্বতন দপ্তরে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান করা হবে।”
কর্মী-সহায়িকারা এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডিমের বাজারদর অনুযায়ী বরাদ্দ দ্রুত না বাড়ানো হলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মিড-ডে মিল (Mid Day Meal) চালু রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।