লালকেল্লা বিস্ফোরণ: মাস্টারমাইন্ড ‘দানিশ’-এর হেফাজত আরও ৭ দিন বাড়ল! এনআইএ-র জালে ৭ জঙ্গি, কী ছিল তাদের টার্গেট?

লালকেল্লায় বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত জসির বিলাল ওয়ানি ওরফে দানিশের এনআইএ-র হেফাজতের মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়াল পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ২৭ নভেম্বর তাকে সাত দিনের জন্য এনআইএ (NIA) হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল।
জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কাজিগুন্ডের বাসিন্দা ওয়ানিকে ১৭ নভেম্বর শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওয়ানি সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য ড্রোন প্রযুক্তি এবং রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, দিল্লি হাইকোর্ট লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলার বিচার পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্যানেল গঠনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের মন্তব্য, মামলার বিচার এখনও শুরু হয়নি এবং পিটিশনে উত্থাপিত বিষয়টি কেবল আশঙ্কা।
পাক জঙ্গি সংগঠনের ‘ডাক্তার মডিউল’
১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণ ঘটানো মূল জঙ্গি চিকিৎসক উমর মহম্মদের সঙ্গে পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের যোগ ছিল। তদন্তে এনআইএ জানতে পেরেছে, ‘উকাসা’ নামে এক বিদেশি উমরের ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাজ করত এবং সেই উসাকাই ছিল এই ‘ডাক্তার মডিউল’ ও পাক জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র। উসাকার বিষয়ে আরও তথ্য জানতে তদন্ত জারি রেখেছে এনআইএ।
তুরস্ক কানেকশন: রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে তুরস্কের আঙ্কারাতে উমর এবং তার তিন সহযোগী একসঙ্গে সময় কাটিয়েছিল। তখন থেকেই এই ‘ডাক্তার মডিউলের’ সূচনা।
এনক্রিপ্টেড চ্যাট: প্রাথমিকভাবে টেলিগ্রামে এই ভারত বিরোধী চিকিৎসকদের কথা শুরু হয়েছিল, পরে তারা সিগনাল এবং সেশন নামক অন্য এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপে চলে যায়। তদন্তে জানা গেছে, ‘উকাসা’ এই মডিউলকে গোপন অপারেশন (কোভার্ট অপারেশন) চালানোর পরামর্শ দিত এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট মুছতে সাহায্য করত।
৩০০০ কেজি বিস্ফোরক ও হামলার ছক
এই মডিউলটি নাকি একসঙ্গে একাধিক ভারতীয় শহরে হামলার ছক কষেছিল। এর জন্য উমর তিনটি গাড়ি কিনেছিল। এর মধ্যে সিলভার রঙের আই২০ গাড়িটি বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে। একটি লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ি হরিয়ানার গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও একটি মারুতি সুজুকি ব্রেজ্জার খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই মডিউলের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জঙ্গিরা অযোধ্যার রামন্দিরের ধ্বজা উত্তোলনের দিন (২৫ নভেম্বর), ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কিংবা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন (৬ ডিসেম্বর) হামলার ছক কষেছিল। এনআইএ অফিসাররা চিকিৎসক উমরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডঃ মুজাম্মিল শেখকে জেরা করছেন, যিনি উমরের সঙ্গে লালকেল্লার রেকি (Reconnaissance) করেছিলেন বলে জানা গেছে।