বাংলা বিদ্বেষী বিজেপি! অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে গর্জন মমতার

নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথির অভাবে বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে তার ৮ বছরের সন্তান সহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনা ফের একবার শিরোনামে। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, মানবিকতার খাতিরে তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সভা মঞ্চ থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সোনালি খাতুনের নাম তুলে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করলেন।
এদিন সভা মঞ্চ থেকে ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, “সোনালি খাতুন। তাঁর ছোট ছোট বাচ্ছা আছে। তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা সুপ্রিম কোর্টে গেছিলাম। (কোর্ট) বলেছে ফিরিয়ে দিতে হবে।”
‘বাংলা বললেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে’
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি-কে ‘বাংলা বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “বাংলা ভাষার উপর এতো রাগ কেন? বাংলা বিদ্বেষ বিজেপি। বাংলা বললেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।” এরপরেই তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন, “কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না বাংলায়, বিজেপি কান খুলে শুনে নাও।”
প্রসঙ্গত, এ বছরের শুরুতেই অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সোনালি খাতুন, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ এবং ৮ বছরের সন্তানকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সোনালি খাতুনের বাবা ভারতীয় নাগরিক ভদু শেখ আইনি লড়াই শুরু করেন।
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট মানবিকতার কথা বিবেচনা করে সোনালি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে। শুধু ফিরিয়ে আনাই নয়, শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে ভারতে আসার পর অন্তঃসত্ত্বা সোনালি এবং তাঁর ছেলের সঠিক চিকিৎসা হয়।
সোনালি খাতুনের দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিক ভদু শেখের কন্যা। এই মামলায় নির্দেশ দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি পর্যবেক্ষণে জানান, ভদু শেখের নাগরিকত্ব নিয়ে যদি প্রশ্ন না থাকে, তাহলে নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সোনালি এবং সোনালির সন্তানরাও ভারতীয় নাগরিকই হবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনি নির্দেশকে সামনে রেখেই বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন।