ভয়ঙ্কর অফিস টাইমে জোড়া দুর্ঘটনা কলকাতায়! পা হারালেন বাইকচালক, লরির চাকায় পিষ্ট স্কুল পড়ুয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক

বুধবার সকালে অফিস টাইমে কলকাতার দু’টি প্রান্তে ঘটে গেল জোড়া ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা। এই দুটি পৃথক ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন, যাদের মধ্যে একজন বাইকচালকের একটি পা বাদ গেছে এবং ১২ বছরের এক স্কুলছাত্র আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। কলকাতা পুলিশ দুটি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।

ঠাকুরপুকুরে বেপরোয়া বাসের ধাক্কা:

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল ৯টা নাগাদ ঠাকুরপুকুর থানার কদমতলার কাছে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে। ডায়মন্ড হারবারের দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া বেসরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে দুটি বাইক এবং একটি চারচাকা গাড়িকে ধাক্কা মারে। শেষে বাসটি মেট্রো পিলারে গিয়ে ধাক্কা মেরে থামে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাইকচালক ইমরান আলি মোল্লা (৩৪) এবং তাঁর ভাই হাসানুর মোল্লা। ইমরান আলির একটি পা বাদ গিয়েছে বলে জানা গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘাতক বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে আটক করেছে এবং এদিনই তাঁদের আলিপুর আদালতে তোলা হবে।

বেঙ্গল কেমিক্যালস মোড়ে লরির তাণ্ডব:

দ্বিতীয় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে মানিকতলার কাছে বেঙ্গল কেমিক্যালস মোড়ে। সকালে বাবা বাইকে করে ১২ বছরের স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। সেসময় পেছন দিক থেকে বেপরোয়া গতির একটি লরি তাঁদের বাইককে ধাক্কা মারে। ধাক্কার চোটে কিশোরটি ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায় এবং অভিযোগ, লরিটি না থেমে তাকে পিষে দেওয়ার চেষ্টা করে। লরির চাকায় চাপা পড়ে স্কুল পড়ুয়াটি গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয়দের তৎপরতায় লরি ও তার চালককে আটক করে ফুলবাগান থানার পুলিশ। আহত কিশোর বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল স্কুলের ছাত্র। তাকে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং হাসপাতাল সূত্রে খবর, তার অবস্থা উদ্বেগজনক।

শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:

কলকাতায় পথদুর্ঘটনা নতুন না হলেও অফিস টাইমে এই জোড়া ঘটনা ফের শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা এবং ছোটদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। গত কয়েক বছরে আয়ুষ পাইকে থেকে সৌরনীল সরকার— একাধিক স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যু ট্রাফিক ব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক আধিকারিক জানান, “মূলত অফিস টাইমের দিকে এই প্রকারের ঘটনা বেশি ঘটছে। আমরা বিষয়টির উপর নজর রেখেছি।” তবে সাধারণ মানুষের দাবি, পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের আরও কঠোর নজরদারি এবং ভারী গাড়ির বেপরোয়া চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।