পুতিনের ভারত সফরের আগেই মহা-বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত! মস্কো থেকে এলো সেই ঐতিহাসিক চুক্তি, কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতীক্ষিত ভারত সফরের ঠিক একদিন আগেই দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাশিয়া। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট’ (RELOS) চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়ার সংসদ, স্টেট ডুমা।
২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যে সামরিক লজিস্টিক্স চুক্তিতে দু’দেশ স্বাক্ষর করেছিল, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনের সুপারিশে মঙ্গলবার দ্রুততার সঙ্গে সেটিকে অনুমোদন দিয়ে তা অনুসমর্থন (Ratify) করা হলো।
স্পুটনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডুমা স্পিকার ভ্যাচেস্লাভ ভোলোদিন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই অনুমোদন দু’দেশের “কৌশলগত এবং ব্যাপক অংশীদারিত্বকে” আরও শক্তিশালী করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
কী এই RELOS চুক্তি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
RELOS চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় ও রুশ সেনাবাহিনীর আন্দোলন ও লজিস্টিক সাপোর্টকে সহজতর করা। এই চুক্তি অনুসারে:
-
সহজ প্রবেশাধিকার: উভয় দেশের সামরিক দল, যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক বিমানগুলি একে অপরের এলাকায় সহজে প্রবেশ করতে পারবে।
-
আন্তঃসহযোগিতা: জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ (স্পেয়ার পার্টস) এবং সরবরাহের সুবিধাগুলি পারস্পরিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।
-
সর্বজনীন ব্যবহার: এই প্রোটোকল শুধুমাত্র সামরিক মহড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যৌথ প্রশিক্ষণ, মানবিক সাহায্য মিশন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ এবং অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতিতেও কার্যকর হবে।
রুশ মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, এর ফলে উভয় দেশের মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহার এবং যুদ্ধজাহাজগুলির বন্দর ডাকার (Port Calls) প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হবে। এটি দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সামরিক লজিস্টিক্স ও আন্তঃঅপারেবিলিটির স্তরে উন্নীত করবে।
পুতিনের ভারত সফরের মূল আলোচ্যসূচি
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী ৪-৫ ডিসেম্বর ভারত সফরে আসছেন। ২০২১ সালের পর এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। এই সফরে তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যে বিষয়গুলি প্রাধান্য পাবে:
-
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
-
বাণিজ্য ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ
-
শক্তি সুরক্ষা ও পারমাণবিক সহযোগিতা (বিশেষত দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি)
-
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
জানা যাচ্ছে, ক্রেমলিন ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে এই সফরে “বিভিন্ন আন্তঃ-মন্ত্রক এবং ব্যবসায়িক চুক্তি” স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়াও, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, নৌ-সংযোগে জোর এবং বাণিজ্যিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার রূপরেখা নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশিত হতে পারে।
বদলে যাওয়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে RELOS চুক্তির অনুসমর্থন এবং পুতিনের এই সফর প্রমাণ করে, প্রতিরক্ষা, শক্তি এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন গতি পাচ্ছে। এটি শুধু সামরিক সচলতা বাড়াবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিকের পরিবর্তিত নিরাপত্তা কাঠামোতে ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্বকে আরও কার্যকর করে তুলবে।