বিশেষ: AI-প্রযুক্তিতে করুন মাছ চাষ, উৎপাদন বাড়বে ৪ গুণ, বাঁচবে ৭০ শতাংশ মাছও

ফসল জমি রক্ষা করে মাছের উৎপাদন (Fish Production) চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর এক যুগান্তকারী কৌশল নিয়ে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ মারার জন্য গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করা হলেও, অত্যাধুনিক সেন্সর-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অক্সিজেন তৈরি করে ৭০ শতাংশ মাছ বাঁচানো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
AI -প্রযুক্তির মূল কাজ:
এই প্রযুক্তি মাছ চাষের পুকুরের স্বাস্থ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ: পুকুরে অক্সিজেনের পরিমাণ, অ্যামোনিয়ার মাত্রা এবং অন্যান্য প্যারামিটার ঠিক আছে কিনা, তা AI প্রযুক্তি নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা: পুকুরে যখন যা প্রয়োজন হয় (যেমন খাবার, অক্সিজেন), তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। এতে অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয় না, কারণ প্রযুক্তিটি অটোমেটিক গ্যাস উৎপাদন করে সরাসরি জলে প্রয়োগ করে।
জরুরি সুরক্ষা: পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগের মতো পরিস্থিতিতেও তাৎক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ করে মাছকে বাঁচানো সম্ভব।
মাছ চাষের পুকুর-স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা না থাকা এবং প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রা না জানার কারণে চাষিদের লোকসান হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, এক বছর আগে ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসন একটি সরকারি পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নেয়। পুকুরে সেন্সর স্থাপন করে তার সঙ্গে যুক্ত করা হয় একটি মোবাইল অ্যাপ। পুকুরের চারদিকে খাবার ছিটানোর মেশিন এবং জল ও জলের নিচে অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে—এসবই AI প্রযুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
উৎপাদন ৪ গুণ বৃদ্ধির কৌশল:
সাধারণত মাছ চাষের পুকুরের গভীরতা থাকে ৫-৬ ফুট। কিন্তু এই AI পদ্ধতিতে পুকুরের গভীরতা ১৮ ফুট পর্যন্ত করা হয়। এর ফলে:
অল্প জমিতে বেশি মাছ চাষ করা সম্ভব।
প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে শতাংশে ১৫০-২০০টি পাঙাশ চাষ করা যায়, সেখানে এই পদ্ধতিতে ১২০০টি মাছ পর্যন্ত চাষ করা সম্ভব।
খাবারের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম লাগে।
পরীক্ষামূলকভাবে ৫৮ শতাংশ পুকুরে ৭২ হাজার পাঙাশ চাষ সফল হয়েছে। এখন উপজেলা প্রশাসন প্রযুক্তিটি চাষি পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছ চাষে এমন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও, দেশে এটি শুরু হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং মাছের গুণগত মান বাড়বে।