রেকর্ড পতন! ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম ছুঁল ৯০, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও অর্থনৈতিক মহলে

ভারতীয় মুদ্রার (টাকা) দামের পতন কিছুতেই বাগে আসছে না। বুধবার মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম রেকর্ড ৯০ টাকা ছাড়িয়ে গেল, যা অর্থনৈতিক মহলে চরম উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার ডলার প্রতি টাকার দাম ছিল ৮৯.৯৬ টাকা এবং সোমবার ছিল ৮৯.৭৩ টাকা। আজ দিন শুরু হয় ডলার প্রতি ৯০.০৫ টাকা দিয়ে।

এদিন সকালে ৮৯.৯৬-এ দিন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই টাকার দাম ৯০-এর ঘর টপকে ৯০.১৩২৫-এ নেমে যায়। যদিও পরে তা কিছুটা উঠে ৮৯.৮৭-এ ফেরে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও কারণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টাকার এই লাগাতার পতনের প্রধান কারণগুলি হল:

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি থমকে থাকা: ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া থমকে থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (FPI) আউটফ্লো: বৈদেশিক পুঁজি ক্রমাগত ভারতীয় বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, যা টাকার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সিআর ফোরেক্স অ্যাডভাইজারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিত পাবারি বলেন, “ডলার এবং ভারতীয় মুদ্রা ৮৮.৯০ এবং ৯০.২০-এর মধ্যেই ওঠানামা করবে। ৮৯ এর নীচে নামার অর্থ এবার টাকাকে নিজের দাম বাড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লাগতে হবে।”

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপ ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে নভেম্বর পর্যন্ত টাকার অবমূল্যায়ন (ডেপ্রিসিয়েশন) হয়েছে ৪.৮ শতাংশ, যার ফলে চলতি ক্যালেন্ডার বর্ষে এশিয়ার সবথেকে ‘দুর্বল পারফর্মার’ কারেন্সির তালিকায় নাম লিখিয়েছে টাকা। শুধু ডলারই নয়, ব্রিটিশ পাউন্ড-ইউরো এবং জাপানিজ় ইয়েন-চিনা ইউয়ানের সাপেক্ষেও গত এক বছরে টাকার পতন সর্বাধিক।

এই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবারই বৈঠকে বসতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মানিটারি পলিসি কমিটি (MPC)। আগামী ৫ ডিসেম্বরই নতুন সুদের হার ঘোষণা করার কথা। যদিও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক টাকার পতন কমাতে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে, তবুও দুর্বল পোর্টফোলিও প্রবাহ, বৃহত্তর বাণিজ্য ঘাটতি এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে নিকট ভবিষ্যতে টাকার উপর চাপ অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এইচডিএফসি সিকিউরিটিজ জানিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ ৯০ স্তর লঙ্ঘন করায়, আগামী দিনে রুপি আরও ৯০.৩০-এর দিকে নেমে যেতে পারে।