সততার সঙ্গে ‘সুবুদ্ধি বিক্রি’! IT-র চাকরি ছেড়ে কেন এই ব্যবসা? বনগাঁর ব্যবসায়ীর তাক লাগানো আইডিয়া!

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি! উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ট বাজারের বাসিন্দা শ্রীধর রায় সততার সঙ্গে ‘সুবুদ্ধি বিক্রি’ করে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রীতিমতো পোস্টার লাগিয়ে নিজের এই অভিনব পরিষেবার প্রচার করছেন তিনি।

চাঁপাবেড়িয়া হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শ্রীধর একসময় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। লকডাউনের পরে বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি দোকানদারিকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেন। তাঁর দোকানে শিশুদের খেলনা ও হোমিওপ্যাথির ওষুধপত্র পাওয়া গেলেও, সবচেয়ে বেশি চর্চা দোকানের একটি পোস্টারকে ঘিরে— “সততার সঙ্গে সু-বুদ্ধি বিক্রি করা হয়।”

বুদ্ধি বিক্রির ধারণা কীভাবে এল?

শ্রীধর রায় জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগেই মানুষের বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক, মানসিক এমনকি শারীরিক সমস্যায় পরামর্শ দেওয়ার এই অনন্য ভাবনা তাঁর মাথায় আসে। এরপরই তিনি সামান্য পারিশ্রমিক নিয়ে ‘সুবুদ্ধি বিক্রি’র ধারণাটি বাস্তবে প্রয়োগ করেন। তিনি নানা জটিল পরিস্থিতি সামলানোর উপায়, সম্পর্ক-সংক্রান্ত দিকনির্দেশ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের দাবি, এই অভিনব ব্যবসা ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই বহু মানুষ শ্রীধরের দোকানে ভিড় করেন। কারও পারিবারিক অশান্তি, কারও মানসিক সমস্যা— সব ক্ষেত্রেই তিনি সমাধানের পথ দেখান। নিজের পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিতে তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন লাদেনের ‘কুবুদ্ধি’ এবং এপিজে আব্দুল কালামের ‘সুবুদ্ধি’-র প্রসঙ্গ।

স্থানীয় মহলে শ্রীধর রায়ের এই উদ্যোগ এখন রীতিমতো ভাইরাল। অনেকেই বলছেন, মানুষকে ভাল পথে চালনা করাই আসল বুদ্ধি। সেই ভাবনাকেই পুঁজি করে সীমান্ত শহরের এই ব্যবসায়ী আজ এক আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। সুবুদ্ধি চাইলে আপনাকেও যেতে হবে বনগাঁ ট বাজারে।