‘খুনিদের মৃত্যুদণ্ড চাই’, জাতপাতের বলি ২০ বছরের সক্ষম, মৃত প্রেমিককেই বিয়ে করে পরিবার ও পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন আঁচল!

মহারাষ্ট্রের নান্দেড়ে এক মর্মান্তিক ঘটনায় জাতপাতের গোঁড়ামি বলি নিল ২০ বছরের যুবক সক্ষম তাতের প্রাণ। এরপর তাঁর ২১ বছরের প্রেমিকা আঁচল মামিদওয়ার সক্ষমের মৃতদেহকেই বিয়ে করে পরিবার ও পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
পুলিশের মন্তব্যে খুনের ‘চ্যালেঞ্জ’
আঁচলের দাবি, খুনের দিনই তাঁর দাদা তাঁকে থানায় নিয়ে যান সক্ষমের বিরুদ্ধে একটি ‘ভুয়ো অভিযোগ’ জমা দেওয়ার জন্য। তিনি রাজি না হওয়ায় নাকি পুলিশ তাঁদের বলেন, “অভিযোগ সাজানোর বদলে যাকে নিয়ে সমস্যা, তাকে খুন করে এসো!” আঁচলের বিস্ফোরক দাবি, এই মন্তব্যকেই ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নিয়ে তাঁর দাদারা সক্ষমকে নৃশংসভাবে খুন করে।
খুনের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নান্দেড় পুলিশ আঁচলের বাবা, ভাই সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে। সক্ষমের মা-এর অভিযোগের ভিত্তিতে খুন ও অত্যাচার দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
পরিবারের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ধর্ম পরিবর্তনের চাপ
আঁচল জানান, তিন বছর ধরে সক্ষমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল, কিন্তু সক্ষম তফশিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় তাঁর পরিবার সম্পর্কটি মেনে নেয়নি। আঁচলের অভিযোগ, “তাঁরা বলেছিল, বিয়ে করতে চাইলে সক্ষমকে ধর্ম বদলাতে হবে। সক্ষম তাতেও রাজি ছিল। কিন্তু ওরা শুধু সুযোগ খুঁজছিল।”
আঁচলের দাবি, তাঁর পরিবারের সদস্যরা সক্ষমের সঙ্গে মেলামেশা করতেন, খেতেন, হাসি-ঠাট্টা করতেন— যাতে ছেলেটির মনে বিশ্বাস তৈরি হয়। আঁচল কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ও ভাবত, সব ঠিক আছে। কখনও ভাবিনি এভাবে ওকে মেরে ফেলবে।” তিনি জানান, তাঁর পরিবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, কারণ তাঁর ভাইয়েরা বারবার বলেছিল, ওরাই তাঁদের বিয়ে দেবে।
নৃশংসভাবে খুন
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আঁচলের পরিবারের কয়েকজন সক্ষমকে দেখতে পেয়ে প্রথমে গুলি চালায়, তারপর বড় পাথর দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই সক্ষমের মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবক এবং অভিযুক্ত, দুই পক্ষেরই পূর্বে কিছু অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। তবে দু’জনের সম্পর্ক নিয়েই টানাপড়েন বাড়িয়ে তুলেছিল পরিবারে।
আঁচলের অভিযোগ, খুনের পরও পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “জাতের জন্যই ওকে খুন করা হয়েছে। খুনিদের মৃত্যুদণ্ড চাই। সক্ষমের জন্য ন্যায় চাই।”