১০০ বছরেরও বেশি পুরনো ‘ফ্যাকাসে রঙের’ সেই কোচ! কী এই আরএমএস? যে কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের উপকূলীয় এলাকার ভাগ্য পাল্টায়!

ভারতীয় ডাক ব্যবস্থার ইতিহাস বহু দশকের পুরনো। একসময় পায়ে হেঁটে কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে ডাক পৌঁছে দিতেন পিওনরা। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার গতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল ব্রিটিশ সময়কালে ভারতীয় রেলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এক বিশেষ পরিষেবা— রেলওয়ে মেল সার্ভিস (RMS)। প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি আগে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থা আজও ভারতীয় রেলের মাধ্যমে তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। চিঠিপত্র ও পার্সেল দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার এই পদ্ধতিকেই আরএমএস বলা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আরএমএস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
উপকূলবর্তী এলাকা, যেমন প্রাচীন জনপদ কাঁথি (কন্টাই) কিংবা দিঘা সহ এই অঞ্চলের মানুষজনের কাছে দ্রুত ডাক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের শাখায় এই আরএমএস-এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। দ্রুত মানুষের মধ্যে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ১৯০০ সালের প্রথম দিকে এই পরিষেবা শুরু হয়।
ব্রিটিশ শাসনকালে যখন বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মালগাড়ির যাতায়াত শুরু হলেও, অল্প দিনের মধ্যেই শুরু হয় প্যাসেঞ্জার ট্রেন। গবেষকদের দাবি, এই সময়কালে বিভিন্ন ট্রেনের কোচের সঙ্গে একটি বিশেষ কোচ যুক্ত থাকত শুধুমাত্র মেইল সার্ভিসের জন্য। পুরো ট্রেনের রং সাধারণত লাল হলেও, এই আরএমএস কোচের রং হত কিছুটা ফ্যাকাসে। এই কোচে ডাক বিভাগের কর্মী ও রেলের কর্মীরা একসাথে কাজ করতেন। বহু সাহিত্যিক তাঁদের লেখায় এই আরএমএস-এর কথা উল্লেখ করেছেন। মাদ্রাজ মেল-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোতেও এই মেইল সার্ভিস চালু ছিল।
খড়গপুর ডিভিশন ও কন্টাই রোড স্টেশনের ভূমিকা
খড়গপুর ডিভিশনের কন্টাই রোড স্টেশন (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা পরিচিত) ছিল এই আরএমএস-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রাচীন কাঁথি জনপদকে কেন্দ্র করেই এই স্টেশনের নাম হয়েছিল কন্টাই রোড স্টেশন। ব্রিটিশ সময়কাল থেকে দ্রুত চিঠিপত্র পৌঁছে দেওয়া এবং বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকার মানুষজনের কাছে দ্রুত ডাক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই স্টেশনে আরএমএস কাউন্টারের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তবে কিছু বছর আগে এই স্টেশন থেকে আরএমএস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধুমাত্র খড়গপুর থেকেই পরিচালিত হয়। যদিও ভারতীয় ডাক বিভাগে বৃহৎ পরিবর্তন এলেও, এই রেলওয়ে মেল সার্ভিসের ঐতিহাসিক ভূমিকা আজও অপরিসীম।