ব্যবসায়িক কৌশলকে কীভাবে নতুন রূপ দিচ্ছে এআই? জেনেনিন এক নজরে

তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রের মতো এবার স্টার্টআপগুলোর বাজারে প্রবেশের প্রচলিত কৌশল বা জিটিএম (Go-to-Market) স্ট্র্যাটেজিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। এখন কম সম্পদ ব্যবহার করেও স্টার্টআপগুলো বাজারে দ্রুত ও বড় প্রভাব ফেলতে পারছে।
গত মাসে ‘জিটিএমফান্ড’-এর জেনারেল পার্টনার ম্যাক্স আল্টসচুলার বলেন, “এখন এআই বা নতুন প্রযুক্তির কারণে কম সম্পদ দিয়েও বেশি কিছু করতে পারেন আপনি।” তবে, এই নতুন সুযোগের সঙ্গে সঠিক সমাধান বের করার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু স্টার্টআপ এখন এমন ডেভেলপার নিয়োগের কথা ভাবছে, যারা এআইতে দক্ষ এবং সাধারণ বিপণন চ্যালেঞ্জ বা জিটিএম সমস্যাগুলো সমাধানে তা কাজে লাগাতে পারে।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা যথেষ্ট নয়, জোর দিতে হবে মৌলিক জ্ঞানে
আল্টসচুলার মনে করেন, শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেই হবে না, এখন আরও বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতার প্রয়োজন।
“এআই ও নতুন প্রযুক্তি থাকলেও প্রমাণিত বিভিন্ন মার্কেটিংয়ের মূল ভিত্তি ও কৌশল বোঝা এখনও জরুরি। মার্কেটিংয়ে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস কীভাবে ও কেন কাজ করে সে সম্পর্কে আপনার সাধারণ ধারণা থাকা জরুরি।”
‘গুগল ক্লাউড’-এর মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিসন ওয়াগনফেল্ডও এই মতকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “আপনাকে অবশ্যই এআইয়ের জ্ঞান ও এআই নিয়ে কৌতূহলী হতে হবে… তবে এর সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্য কী তা বোঝাও জরুরি, বিশেষ করে গ্রাহকের ধারণা বোঝা, গবেষণা করা ও চমৎকার সৃজনশীলতা কেমন হয় তা দেখার জন্য এসব দরকার।”
এআই-এর মাধ্যমে নিখুঁত ‘পার্সোনালাইজেশন’
ওপেনএআইয়ের স্টার্টআপ বিভাগের প্রধান মার্ক মানারা জানিয়েছেন, অনেক স্টার্টআপ এখন তাদের জিটিএম কৌশলে এআই গ্রহণ করেছে। তবে এটি কেবল রিসোর্স ব্যয় কমানোর জন্য করা হচ্ছে না।
“এআই দিয়ে যে পার্সোনালাইজেশন ও সিগন্যাল অনুসরণের সক্ষমতা মেলে তা এখন ভিন্নরকম। ফলে এআই ব্যবহার করে গ্রাহকের আচরণ অনুসারে আরও নিখুঁত ও নির্দিষ্ট কাজ করা সম্ভব, যা আগে এত সহজ ছিল না।”
মানারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এখন এমন টুল আছে যা লিড তৈরিতে সাহায্য করে এবং তা আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। কেবল ডেটাবেইসে সাধারণ সার্চিংয়ের বদলে, স্টার্টআপগুলো এখন এআই প্রম্পট ব্যবহার করে খুব নির্দিষ্ট শর্ত অনুসারে সম্ভাব্য গ্রাহক খুঁজে নিতে পারছে।
‘ইনবাউন্ড মার্কেটিং’ (যেখানে গ্রাহককে জোর করে বিজ্ঞাপন না দেখিয়ে মূল্যবান তথ্য বা কনটেন্টের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা হয়) এখন পরিবর্তিত হয়েছে। এআই প্রম্পটের ফলাফল ব্যবহার করে ইনবাউন্ড লিডকে যাচাই ও স্কোর করা যায়, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল।
নিয়োগে কৌতূহলই শেষ কথা
ওয়াগনফেল্ড মনে করেন, জিটিএম কৌশল তৈরির সময় দল গঠনের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, নিয়োগের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।
“আগে মূলত বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হত যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে জানেন, বিশেষ করে মার্কেটিং বা বিক্রির ক্ষেত্রে পারদর্শী। তবে এখন দলে এমন মানুষ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ যাদের কৌতূহল রয়েছে ও তারা বোঝার চেষ্টা করেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।”