পরিবারের হাতে খুন প্রেমিক, শেষ পর্যন্ত মৃতদেহের সঙ্গেই বিয়ে সারলেন তরুণী

পারিবারিক সম্মানের নামে ঘটে গেল আরও একটি নারকীয় খুন। তপশিলি জাতিভুক্ত (Scheduled Caste) যুবক সক্ষম টাটে-কে নৃশংসভাবে খুন করল তার প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা। কারণ? তারা কিছুতেই এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিলেন না। কিন্তু, পরিবারের এই নির্মম সিদ্ধান্তের কাছে হার মানতে নারাজ সেই যুবতী। মৃতদেহের সঙ্গেই বিয়ে সেরে পরিবারকে দিলেন চরম জবাব।
মহারাষ্ট্রের নান্দেদের পুরনো গঞ্জ এলাকার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন নিহত সক্ষমের প্রেমিকা, আঁচল নিজেই। তাঁর দাবি, তিন বছরের সম্পর্ককে পরিণতি দিতে না চাওয়ায় তাঁর ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলেই খুন করেছে সক্ষমকে।
হলুদ মেখে, নিথর হাতে সিঁদুর: মরদেহের সঙ্গে প্রতীকী বিয়ে
সক্ষমের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেখতে যান আঁচল। সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখল এলাকার মানুষ। আঁচল মৃত সক্ষমের শরীরে হলুদ মাখিয়ে দেন এবং তার নিথর হাত দিয়ে নিজের কপালে সিঁদুর টেনে নেন।
বিড়বিড় করে তিনি বলেন, “ও মরে গেলেও আমাদের প্রেম বেঁচে রইল। হেরে গেল আমার বাবা আর ভাইরা। সক্ষম মারা গেলেও আমি ওকেই ভালোবাসি। আমি ওর বাড়িতেই বউ হিসেবে থাকব।” প্রেমিকার এই অটল সিদ্ধান্ত এবং মরদেহের সঙ্গে তার বিয়ে স্থানীয়দের হতবাক করে দিয়েছে।
পুলিশের ‘পরামর্শেই’ খুন? চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আঁচলের
কেন খুন হতে হল সক্ষমকে? আঁচলের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরা তাদের সম্পর্ক মানতে না পারায় সক্ষমকে টার্গেট করেছিল। সক্ষমের তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়াটাই ছিল পরিবারের মূল আপত্তি।
আঁচল জানান, ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নান্দেরের পুরনো গঞ্জ এলাকায় সক্ষমের উপর চড়াও হয় তাঁর ভাই হিমেশ। গুলি করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে সক্ষমের মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো, খুনের দিন সকালেই আঁচলকে জোর করে থানায় নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। “আমার ভাই আমাকে জোর করে থানায় নিয়ে গিয়ে সক্ষমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে বলেছিল। আমি তাতে সায় দিইনি। তখন পুলিশ কর্মীরা আমার ভাইকে পরামর্শ দেয়, সক্ষমের বিরুদ্ধে থানায় না এসে মেরে ফেলতে। তাহলেই মুশকিল আসান হয়ে যাবে,” দাবি আঁচলের।
আঁচলের অভিযোগ, তাঁর ভাই পুলিশের সেই পরামর্শকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নিয়েই সক্ষমকে খুন করে।
গ্রেফতার ৮, পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা
এদিকে, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত যুবকের পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আঁচলের পরিবারের সদস্য সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সক্ষমের সঙ্গে আঁচলের সম্পর্কের কথা এলাকাবাসীরা জানতেন এবং তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগেও ঝামেলা হয়েছে। তবে এই সম্পর্কের জন্য কাউকে খুন করা হবে, তা ছিল ভাবনার অতীত।
আঁচলের বক্তব্য, “সক্ষমকে আমি ভালোবাসতাম। আমার বাড়ির লোক যে ওকে খুন করে দেবে সেটা ভাবিনি। সকালে আমাদের কথা হয়েছিল। পরদিন খবরের কাগজে ওর মৃত্যুর খবর জানতে পারি।”