ত্রিকোণ প্রেমের নৃশংস পরিণতি, যুবককে মারধর করে মুখে প্রস্রাব, ভিডিও ভাইরাল হতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক

উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে ত্রিকোণ প্রেমের জেরে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাতভর মারধর ও নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, অভিযুক্তরা সেই অত্যাচারের ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। প্রথমে তুলনামূলক লঘু ধারায় মামলা রুজু করায় অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে গেলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পুলিশের তৎপরতা ও ফের গ্রেফতার বিতর্ক শুরু হতেই চাপে পড়ে পুলিশ ওই দুই অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এই বিষয়ে ব‍্যারাকপুর কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা জানান:

রবিবার রাতে অভিযুক্ত জিৎ সরকার ও শুভ্রনীল কিস্কুকে আবারও গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা (Attempt to Murder) ও আগ্নেয়াস্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

সোমবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটনাটি নৈহাটির জেঠিয়া থানার রবীন্দ্রনগর এলাকার। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জিৎ সরকারের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবতীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে যুবতী জেঠিয়ার জোনপুরের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই নিয়ে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রেমিকের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল।

নির্যাতিত যুবকের অভিযোগ, গত ২৮ নভেম্বর রাতে তাঁকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন জিৎ। প্রথমে একটি বারে নিয়ে গিয়ে মদ‍্যপান করানো হয়। তারপর রবীন্দ্রনগরের একটি আমবাগানে নিয়ে গিয়ে রাতভর মারধর করা হয়। এমনকী, তাঁর মুখে প্রস্রাব করা হয় বলেও অভিযোগ করেন নির্যাতিত যুবক।

বিধায়কের তীব্র নিন্দা প্রথমবার অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে গেলে নির্যাতিত যুবকের পরিবার ও স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। তিনি বলেন:

“ঘটনাটি আমার কানে এসেছে। ত্রিকোণ প্রেমের জেরে এই ঘটনা ঘটলেও তা অনভিপ্রেত। বারে গিয়ে আগে মদ খাওয়ানো, আটকে রেখে মারধর করা, প্রস্রাব করে দেওয়া—কিছু বলার ভাষা নেই। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে, কিন্তু এমনই ধারা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে, যে জামিনও হয়ে গিয়েছে তাদের। এই নিয়ে ওসি-র সঙ্গে কথা বলেছি। নতুন ধারা যুক্ত করে চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছি। এই অপরাধের কোনও ক্ষমা নেই। ভিডিয়ো আমিও দেখেছি, মারাত্মক দৃশ্য।”

এই ঘটনায় ফের একবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শাসকদলের বিধায়কের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল, যা সম্প্রতি খড়দার তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পরে আবারও বিতর্কের সৃষ্টি করল।