১ ডিসেম্বর: আজ বিশ্ব এইডস দিবস ২০২৫! কেন এইচআইভি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ?

আজ, ১ ডিসেম্বর, বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় এইডস দিবস ২০২৫। এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, এইচআইভি (HIV) অর্থাৎ “Human Immunodeficiency Virus” নামক ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগলক্ষণসমষ্টি এইডস (AIDS) সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০০৭ সালের গণনা অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ৩২ লক্ষ মানুষ এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ছিল শিশু।
এইডস হলো এমন একটি রোগ, যা মানুষের দেহে রোগ-প্রতিরোধের ক্ষমতা বা প্রতিরক্ষা হ্রাস করে দেয়। এর ফলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি খুব সহজেই যেকোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
এইচআইভি সংক্রমণ এবং এইডস:
এইচ.আই.ভি. সংক্রমণ: এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা এইডস হয় না।
প্রাথমিক উপসর্গ: সংক্রমণের শুরুতে ক্ষেত্র বিশেষে ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় উপসর্গ (যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, ফুলে ওঠা লসিকা গ্রন্থি) দেখা যেতে পারে। এই লক্ষণগুলো সাধারণত কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়, ফলে রোগী ভাইরাস সম্পর্কে অবগত হন না।
উপসর্গহীন পর্যায়: এরপর বহুদিন (সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত) কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু এই সময়ে ভাইরাস মানুষের শরীরে বাস করে।
এইডস পর্যায়: এইচ.আই.ভি. ভাইরাসের আক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যখন দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র বা অনাক্রম্যতন্ত্র দুর্বল হতে থাকে, তখন আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সংক্রামক ব্যাধি বা টিউমারের শিকার হতে পারেন, যা কেবলমাত্র রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদেরই হয়। অনিচ্ছাকৃতভাবে ও অত্যধিক পরিমাণে ওজন কমে যাওয়া এই পর্যায়ের প্রায়শই দেখা যায়। এই পর্যায়টিকেই এইডস বলা হয়।
রোগ ছড়ানোর কারণ ও সতর্কীকরণ:
এইচ.আই.ভি. ভাইরাস নিম্নলিখিত উপায়ে সংক্রামিত হতে পারে:
রক্ত গ্রহণ: ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে।
সংক্রমিত সূঁচ বা সিরিঞ্জ: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে।
মায়ের থেকে শিশু: এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা গর্ভধারণের শেষ দিকে বা প্রসবের সময় হতে পারে।
অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক: এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কারো সঙ্গে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে।
তাই এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বা ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।