বারাসত মেডিক্যালে ‘দালালরাজ’! চোখ-কাণ্ডের পর মুখ খুললেন রোগীরা, বিনামূল্যে পরিষেবা পেতেও গুনতে হচ্ছে টাকা!

বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘চোখ-কাণ্ড’-এর পর থেকে সেখানকার পরিষেবা ব্যবস্থার ‘বেআব্রু’ ছবিটা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজের দৌরাত্ম্য, বেনিয়ম এবং টাকা ছাড়া পরিষেবা না মেলার মতো গুচ্ছ-গুচ্ছ অভিযোগে এখন সরগরম জেলার সদর শহর।
একসময় হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে মুখ খুলতে না পারা সাধারণ মানুষও চোখ-কাণ্ডের পর এখন প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
বিজেপির অভিযোগ: পরিষেবা ঘাটতি ও দালালরাজ
গেরুয়া শিবিরের দাবি, বারাসত হাসপাতাল জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত হলেও রোগী পরিষেবায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তাদের অভিযোগ:
মেডিক্যাল কলেজে সঠিক পরিষেবা নেই।
হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বাড়ছে, যাদের দাপটে রোগীর পরিবার সমস্যায় পড়ছে।
টাকা ছাড়া কোনও পরিষেবাই বারাসত মেডিক্যালে পাওয়া যায় না।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্রের অভিযোগ, পিপিপি মডেলে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান থাকলেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়।
‘নিশ্চয় যান’ প্রকল্পে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাতেও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
২ বছর ধরে বার্থ সার্টিফিকেটের হয়রানি:
দালালরাজ ছাড়াও একাধিক পরিষেবার ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কাঞ্চন বিশ্বাস নামের এক মহিলা অভিযোগ করেন, তাঁর শিশু সন্তানের বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য তিনি টানা দু-বছর ধরে হাসপাতালের এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ঘুরছেন, অথচ কাজ হয়নি। সম্প্রতি বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের আন্দোলনে এসে তিনি এই ক্ষোভ উগরে দেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি: প্রভূত উন্নতি ও অভিযোগ অস্বীকার
যদিও বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা রোগীর পরিষেবার মানের প্রভূত উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি টাকা দিয়ে পরিষেবা মেলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে হয়রানির অভিযোগ মানতে নারাজ এমএসভিপি। তাঁর বক্তব্য, পুরনো পেন্ডিং কাজ নথি সহকারে আপলোড করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর পরিবার আবেদন করার পরেও সার্টিফিকেট নিতে আসে না বা তথ্যের ভুল থাকলে তা আর জমা দিতে আসে না।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ নসাৎ করে তিনি বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে। সুষ্ঠুভাবে রোগীর পরিষেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
রাজনৈতিক তরজা:
এমএসভিপি-র সুরে সুর মিলিয়ে শাসক শিবিরও পাল্টা এই ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছে। বারাসত পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তাপস দাশগুপ্ত বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং বিরোধীদের কাজই হল সরকারের খুঁত ধরা। এই নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক তরজায় জেলার সদর শহর সরগরম।