‘বাঁচতে চাই, কিন্তু উপায় নেই’- SIR-এর প্রবল কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী উত্তরপ্রদেশের শিক্ষক!

উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে প্রবল কাজের চাপ সামলাতে না পেরে এবার এক স্কুল শিক্ষক ও বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) সর্বেশ সিং আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মৃতদেহের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট (Suicide Note) উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে তিনি এসআইআর (Special Summary Revision) অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের বিপুল চাপের অভিযোগ তুলেছেন।
সুইসাইড নোটে কাজের চাপের অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বেশ সিং গত ৮ বছর ধরে জাহিদপুরের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ৭ অক্টোবর তিনি প্রথম ভোট-সম্পর্কিত কাজ হিসেবে বিএলও-র দায়িত্ব পান। তাঁর ভাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সর্বেশ গত কয়েকদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন এবং কাজের চাপের কথা বলতেন।
পুলিশের উদ্ধার করা তিন পাতার সুইসাইড নোটে সর্বেশ সিং তাঁর তীব্র যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন:
“রাত-দিন কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও এসআইআরের টার্গেট পূরণ হচ্ছে না। অত্যন্ত দুশ্চিন্তা নিয়ে রাত কাটছে। মাত্র ২-৩ ঘণ্টা ঘুমনোর সময় পাচ্ছি। বাড়িতে ৪ মেয়ে। যাদের মধ্যে দুজন অসুস্থ। আমি বেঁচে থাকতে চাই কিন্তু উপায় নেই। একটা দমবন্ধকর পরিস্থিতি। সর্বক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে।”
তিনি আরও লেখেন, “আমার ৪ মেয়ের যত্ন নিও। হাতে সময় বেশি থাকলে হয়ত এই কাজ শেষ করতে পারতাম, কিন্তু যে সময় দেওয়া হয়েছে তা আমার জন্য পর্যাপ্ত নয়। কারণ আমি এই প্রথমবার বিএলও হয়েছি।”
তোলপাড় উত্তরপ্রদেশে
সর্বেশ সিং-এর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর বিএলও-দের মধ্যে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সহকর্মীরা তীব্র কাজের চাপ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, এই নিয়ে শুধু উত্তরপ্রদেশে এসআইআর-এর কাজের চাপের কারণে মোট ৭ জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা। কর্মক্ষেত্রে অত্যধিক চাপ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টার্গেট পূরণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।