SIR মানে ভয় নয়, এক পায়ে ‘জয়’! শারীরিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বিষ্ণুপুরে ৯৯% কাজ সম্পন্ন করলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী

রাজ্যে নভেম্বর মাসের গোড়ায় এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত কাজের চাপে বিএলও-দের (BLO) অসুস্থতা বা আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও কম সময়ে কাজ সম্পূর্ণ করায় পুরস্কারও পেয়েছেন বিএলও-রা। তবে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার বেলশুলিয়া পঞ্চায়েতের জামশুলি গ্রাম থেকে উঠে এল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনুপ্রেরণামূলক ছবি।
দায়িত্ববোধ, আত্মনিষ্ঠা ও মনের জোরে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শোভানারা বায়েন।
প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল:
জন্ম থেকেই এক পা নেই শোভানারার। স্নাতকোত্তর (Post-Graduate) এবং বিএড (B.Ed) ডিগ্রিধারী এই বিশেষভাবে সক্ষম মহিলা আইসিডিএস (ICDS) কর্মী। বিএলও’র দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি নির্বাচন কমিশনে নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এলাকায় অন্য কোনো বুথ লেভেল অফিসার না-থাকায় জামশুলি গ্রামের ২৩৮ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন তিনি।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় শোভানারা বায়েনের কাঁধে ছিল এই বুথের ১০৩৯ জন ভোটারের ফর্ম সংগ্রহ ও ফিলাপ করার দায়িত্ব।
এক পায়ে ‘জয়’:
অকেজো পা-টা হাঁটুর কাছে বেঁধে রেখে গ্রামের দুর্গম পথ ধরে তিনি সমস্ত ভোটারের বাড়ি বাড়ি যান। গত এক মাস ধরে তাঁর রুটিন ছিল:
সকালে আইসিডিএস সেন্টারে নিজের কর্তব্য পালন করা।
এরপর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্রাচ বা কোনো সাহায্যের ছাড়াই এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ভোটারদের দরজায় ঘুরে ঘুরে SIR-এর কাজ করা।
বিকেলে ভোটারদের কাছ থেকে এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করে তা কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা।
এভাবেই তিনি দায়িত্ব পাওয়া বুথের ইতিমধ্যেই ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন।
‘ভয় বা চাপ’-এর কোনো জায়গা নেই:
শোভানারা বায়েন বলেন, “এসআইআর ফর্ম-ফিলাপ খুবই সহজ। ভয় বা চাপ কোনো কিছুরই কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রথম দিকে একটু অস্বস্তি হয়েছিল, কিন্তু কাজ শুরু করতেই বুঝলাম সরকার দেশজুড়ে যতটা সুসংগঠিতভাবে এই প্রক্রিয়া চালু করেছে, তাতে চাপের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দায়িত্ব যেহেতু দেশের স্বার্থে, তাই তা পালন করাই আমার কর্তব্য।”
তাঁর কথায়, “প্রতিবন্ধকতা কখনই কাজের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না, বরং ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়।” তাঁর এই কাজ থেকে সহকর্মীরাও অনুপ্রাণিত। স্থানীয়রা শোভানারাকে একটি তিনচাকার স্কুটি দিয়ে সাহায্য করার জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।