‘দুষ্টের দমন, মহিলাদের সম্মান নিয়ে খেললে এনকাউন্টারও হবে!’ সুকান্ত মজুমদারের গলায় যোগী মডেলের হুঙ্কার

উত্তরপ্রদেশের যোগী মডেলের ইঙ্গিত করে এবার বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে এনকাউন্টারের (Encounter) সুর তুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। অপরাধীদের দমন করতে যোগী রাজ্যের মতো বাংলায় বুলডোজার (Bulldozer) চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুক্রবার রাতে ব্যারাকপুরের দলীয় সভা থেকে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।
সুকান্তের কঠোর বার্তা:
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হবে—এই দাবি করে সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলকে উদ্দেশ করে বলেন:
“পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হলে শাসকদলের মতো আমরা বলব না, বদলা নয় বদল চাই। আমাদের স্পষ্ট বার্তা, দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালন। তোলাবাজদের বাড়িতে বুলডোজার চলবে। মহিলাদের সম্মান নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে এনকাউন্টারও হবে। কেউ আটকাতে পারবে না।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন:
নারী নির্যাতন: সুকান্ত তৃণমূলকে ‘মহিলা বিদ্বেষী দল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সন্দেশখালি কাণ্ড থেকে শুরু করে রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, নারীদের সম্মান রক্ষা করতে হলে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই হবে।
এসআইআর (SIR): নির্বাচন কমিশনে যাওয়া তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত দাবি করেন, তৃণমূল নেতারা SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বললেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবার আগে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
অনুপ্রবেশকারী: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের এদেশ থেকে আমরা তাড়িয়ে ছা়ড়ব।” অন্যদিকে, যাঁরা উদ্বাস্তু ও হিন্দু শরণার্থী, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তিনি তৃণমূলের সাম্প্রদায়িকতার বুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুহাম্মদ ইউনূসের (বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) দেশে গিয়ে সাম্প্রদায়িকতার কথা বলার ক্ষমতা আছে কি না, তা জানতে চান।
রাস্তায় নামাজ: তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “বিজেপির সরকার হলে রাস্তা বন্ধ করে কোনও নামাজ পড়া হবে না। নামাজ হবে মসজিদের ভিতরে, বাইরে নয়।”
পাল্টা আক্রমণ তৃণমূলের:
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। কটাক্ষের সুরে তিনি সুকান্তকে মনে করিয়ে দেন:
“আসলে সুকান্ত মজুমদার ভুলে গিয়েছেন এটা উত্তরপ্রদেশ নয়, বাংলা। এই ধরনের রাজনীতি বাংলার মানুষ পছন্দ করেন না। তাই, ওঁর যা মানসিকতা তাতে আমি বলব ওঁর বাড়ির ঠিকানা বদলে উত্তরপ্রদেশে করে নেওয়া উচিত।”