বাইরের চেয়ে ঘরের বাতাস ৫ গুণ বেশি দূষিত! দিল্লি-এনসিআর-এ নতুন বিপদ, দিশেহারা গৃহবন্দি মানুষ

দীর্ঘদিন ধরে দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) জুড়ে চলতে থাকা দূষণ সংকটে চিকিৎসকেরা সাধারণত শিশু ও প্রবীণদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা (scientific research) এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, বাইরের বাতাসের তুলনায় ঘরের ভেতরের বিষ-বায়ুর মাত্রা কখনও কখনও পাঁচগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

ভারতের প্রথম ইন্ডোর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (IAQ):

সম্প্রতি আইআইটি যোধপুর, এনআইটি ওয়ারাঙ্গাল এবং বিআইটিএস পিলানির বিজ্ঞানীরা ভারতের প্রথম ‘ইন্ডোর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (IAQ) বা ঘরোয়া একিউআই মানচিত্র উদ্ভাবন করেছেন। এই নতুন সূচকটি দেখাচ্ছে যে, দিল্লি ও এনসিআরের বহু শহরে গৃহবন্দি মানুষেরাও তীব্র দূষণের শিকার। ফলে স্বস্তির আশ্রয় হিসেবে ঘর—এখন হয়ে উঠছে উদ্বেগের নতুন কেন্দ্র।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ সিএকিউএম (CAQM) ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে অর্ধেক কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home)-এ পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু ঘরেই দূষণের বিষ-মেঘ ঘিরে থাকলে সেই ‘সুরক্ষিত আশ্রয়’ই নতুন বিপদ ডেকে আনবে।

ঘরের দূষণের মূল কারণ কী?

বিজ্ঞানীদের গবেষণা—যা আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত হয়েছে—তা জানাচ্ছে, ঘরের ভেতরের এই দূষণের মূল কারণ আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মই:

রান্না ও ধোঁয়া: রান্নার সময় সৃষ্ট ধোঁয়া এবং গ্যাস স্টোভের তাপ।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ঘর পরিষ্কার, ধুলো ঝাড়া এবং ক্লিনিং কেমিক্যাল ব্যবহার।

এয়ার ফ্রেশনার: সুগন্ধি এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবহার।

এসবের সম্মিলিত প্রভাবে পিএম২.৫ এবং পিএম১০ কণার ঘনত্ব এক ধাক্কায় বহু গুণে বেড়ে যায়, যা ঘরের বাতাসকে বাইরের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে পাঁচগুণ বেশি বিষাক্ত করে তোলে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কারা?

ঘরের এই নীরব দূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু, প্রবীণ এবং হাঁপানি-অ্যালার্জিতে ভোগা মানুষরা। কারণ, এই মাইক্রো-কণা খুব সহজেই ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

বাঁচার উপায়:

বিজ্ঞানীদের পরামর্শ হলো—

ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং জানলা-দরজা নিয়মিত খোলা রাখা।

বাইরে দূষণ চরমে থাকলে ঘর পরিষ্কার বা রান্নার কাজ কিছুটা কমানো।

সম্ভব হলে নন-স্টিক বা কম-ধোঁয়াযুক্ত রান্নার পদ্ধতি ব্যবহার করা।

ঘরের সামগ্রিক ভেন্টিলেশন বা বায়ু-চলাচল বাড়ানো।

অর্থাৎ, বাইরের দূষণ ভয় ধরালেও ঘরের নীরব দূষণই এখন বড় হুমকি। আর তাই শহরবাসীর প্রশ্ন—বাঁচব কোথায়?