দিল্লি বিস্ফোরণ: দুই বিয়ে ভাঙা ও নতুন প্রেমের টানে কীভাবে ডাক্তার শাহিন সাইদ জঙ্গি হলেন?

দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম নাম শাহিন সাইদ (৪৬)। পেশায় একজন ডাক্তার এবং লখনউয়ের অভিজাত পরিবারের মেয়ে শাহিনের এই ভয়ঙ্কর পরিবর্তন কেন হলো? তদন্তকারীদের মতে, তাঁর জীবনের ব্যক্তিগত টানাপোড়েন, দুইবার বিয়ে ভাঙা এবং তৃতীয় প্রেমের সূত্র ধরেই তিনি ধীরে ধীরে জঙ্গি সংগঠনের ছায়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।

লখনউ থেকে পরিবর্তন:

লখনউয়ের ডালিগঞ্জে বড় হওয়া শাহিন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। এলাহাবাদ থেকে এমবিবিএস করার পর তিনি ফার্মাকোলজিতে বিশেষজ্ঞ হন। তাঁর পরিবারের সবাই শিক্ষিত এবং সমাজে সম্মানিত ছিলেন।

প্রথম ভাঙন ও পেশাগত চাপ:

২০০৩ সালে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ জাফর হায়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় শাহিনের। তাদের দুই সন্তানও হয়। কিন্তু প্রায় এক দশক পর তাঁদের সম্পর্কে ভাঙন ধরে। পরিবার ও বন্ধুমহলের বক্তব্য অনুসারে, বিদেশে বসবাসের ইচ্ছা, পেশাগত টেনশন এবং মানসিক অশান্তির কারণেই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর শাহিন হঠাৎ কলেজে যাওয়া বন্ধ করেন এবং দীর্ঘ আট বছর যোগাযোগহীন অবস্থায় কাটান। পরে তাঁর চাকরিও চলে যায়। গাজিয়াবাদের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিয়েও বেশিদিন টেকেনি, আরও একবার ভেঙে যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন।

তৃতীয় সম্পর্ক ও জঙ্গি সংগঠনের হাতছানি:

শাহিনের জীবনে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৩ সালে। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সময় তাঁর পরিচয় হয় কাশ্মীরি তরুণ চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের (Muzammil Shakeel) সঙ্গে। খুব কম সময়ের মধ্যে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের একটি মসজিদে তাঁদের বিয়ে হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের পর শাহিন নিয়মিত ধর্মীয় সভা এবং ছাত্রদের বৈঠকে যেতে শুরু করেন। সেখানেই তাঁর যোগাযোগ হয় জামাত-উল-মুমিনাত-এর সদস্য, জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা, যেটির নেতৃত্ব দেন জইশ প্রধান মসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। ধীরে ধীরে শাহিনকে জঙ্গি মতাদর্শে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক:

দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় তদন্তকারী সংস্থা এ পর্যন্ত চার মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে:

ডা. মুজাম্মিল শাকিল গণাই (পুলওয়ামা)

ডা. আদিল আহমেদ রাঠার (অনন্তনাগ)

ডা. শাহিন সাইদ (লখনউ)

মুফতি ইরফান ওয়াগায় (শোপিয়ান)

তদন্তকারীরা বলছেন, এই শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা দলটি ছিল এক ধরনের ‘হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক’।