SIR ইস্যুতে কমিশন-তৃণমূল সংঘাত তুঙ্গে! কেন বাংলাকেই নিশানা? কমিশনের বিরুদ্ধে ৫ বিস্ফোরক প্রশ্ন ছুঁড়ল তৃণমূল প্রতিনিধি দল!

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও বাড়ল। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রতিনিধি দল এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (EC) দফতরে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে কমিশন যেমন আইন মেনে কাজ করার বার্তা দিয়েছে, তেমনই বাইরে বেরিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণরূপে আইন মেনেই হচ্ছে এবং রাজ্যের শাসক দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের উচিত কমিশনকে সহযোগিতা করা। কমিশন ভুল তথ্য না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে, কমিশন থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল প্রতিনিধি দল দাবি করেছে, কমিশনের কাছে তাদের পক্ষ থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তার কোনও সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

পাল্টা কমিশন জানিয়েছে, যে কোনো রাজনৈতিক দলের মতামত ও বক্তব্য পেশ করার স্বাধীনতা রয়েছে।

তৃণমূলের ৫টি বিস্ফোরক প্রশ্ন

নির্বাচন কমিশনের দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল যে পাঁচটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে, তা নিম্নরূপ:

১. উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন: SIR কি কেবল ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের জন্য, নাকি পশ্চিমবঙ্গ ও বাঙালিকে নিশানা করতেই এই প্রক্রিয়া চলছে? যদি উদ্দেশ্য শুদ্ধিকরণ হয়, তাহলে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচলপ্রদেশের মতো অন্যান্য রাজ্যগুলিতে কেন এই প্রক্রিয়া হচ্ছে না? ২. ২০২৪ নির্বাচন অবৈধ? ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা যদি অবৈধ হতো, তাহলে সেই ভোটে নির্বাচিত সরকার কীভাবে এখনও ক্ষমতায় থাকতে পারে? ৩. বিদেশি চিহ্নিতকরণ: বিহারে SIR করে কমিশন কতজন বিদেশি বা অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছে? ৪. বিজেপির দাবি ও কমিশনের ভূমিকা: বিজেপি নেতারা বারবার দাবি করছে যে SIR-এর পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে এক কোটিরও বেশি নাম বাদ যাবে। কী ভাবে তারা এই দাবি করছে? কমিশন কি বিজেপি নিয়ন্ত্রিত সংস্থায় পরিণত হয়েছে? ৫. মৃতদের দায়: মৃতদের নামের তালিকা কমিশনকে দিয়ে তৃণমূল প্রশ্ন করেছে, এর দায় কার?

বিএলও-দের ভাতা নিয়ে আলোচনা

এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে বিএলও (BLO) এবং ইআরও (ERO)-দের অতিরিক্ত ভাতা সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। কমিশন জানায়, বিএলও ও ইআরও-দের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্যকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেই ভাতার জন্য রাজ্য সরকার কোনও অর্থ বরাদ্দ করেনি। কমিশন দ্রুত সেই টাকা বরাদ্দ করার জন্য তৃণমূল প্রতিনিধি দলের কাছে আবেদন জানিয়েছে।