‘টাকা না থাকলে নিজের পরিবারও সম্মান করে না!’—বেকার ছেলের প্রতি বাবার মন্তব্যে কেন কেঁদে উঠলেন যুবক?

সম্প্রতি চাকরি ছাড়ার পর একজন যুবকের মুখোমুখি হওয়া কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরা একটি ভিডিও অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লিপটিতে এই যুবক তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যা সমাজের একটি কঠোর সত্যকে ফুটিয়ে তুলেছে: টাকা ছাড়া আপনজনেরাও মূল্য দেয় না।

যুবকটি অতীতের কথা মনে করে বলেন, যখন তিনি উপার্জন করতেন, কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে তাঁর মা যত্ন করে খেতে দিতেন এবং মধুর ভাবে জিজ্ঞাসা করতেন যে তিনি আরও রুটি চান কি না। এই ছোট ছোট আচরণগুলো তাঁকে রোজগারের সময়ে নিজেকে মূল্যবান বোধ করতে সাহায্য করত।

বাবার এক মন্তব্যে চরম অপমান

কিন্তু তিন দিন আগে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তিন দিন ধরে বেকার থাকা এবং নতুন সুযোগের অপেক্ষায় থাকার সময়ে বাবার সঙ্গে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথন তাঁকে গভীরভাবে আহত করে। যখন তিনি খাচ্ছিলেন, তখন তাঁর বাবা অকপটে মন্তব্য করেন, “যদি সে আরও দুটো রুটি চায়, তাহলে তাকে আরও দুটো রুটি দাও।”

ইনস্টাগ্রামে ওই যুবক বলেন, “সেই মুহূর্তে আমার খুব খারাপ লেগেছিল। মনে হয়েছিল যখন আমি অর্থ উপার্জন করি, তখন আমার সম্মান থাকে এবং যখন আমি উপার্জন করি না, তখন আমার কোনও সম্মান থাকে না। যদি আপনার টাকা বা চাকরি না থাকে, তাহলে আপনার নিজের পরিবারও আপনাকে সম্মান করবে না।” তিনি বিশ্বাস করেন, চাকরি হারানোর পর এমনকি তাঁর নিজের পরিবারের আচরণও বদলে গিয়েছে।

টাকা উপার্জনের উপর জোর

যুবকটি তাঁর ভিডিওর মাধ্যমে সমস্ত যুবকদের কাছে উপার্জনের উপর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সব ছেলেদের কাছে আমার সহজ অনুরোধ, টাকা উপার্জন করুন। যা আপনার জন্য উপযুক্ত, সেই ভাবে উপার্জন করুন। যদি আপনার টাকা থাকে, তাহলে আপনার সম্মান আছে। যদি না থাকে, তাহলে আপনার কিছুই নেই।”

তাঁর এই বিস্ফোরক পোস্টে বহু ইউজার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন ইউজার দার্শনিক ক্রিস রকের উক্তি উদ্ধৃত করে লেখেন, “শুধুমাত্র নারী, শিশু এবং কুকুরকেই নিঃশর্তভাবে ভালোবাসা যায়। একজন পুরুষকে কেবল তখনই ভালোবাসা যায় যখন সে কিছু দেয়।” আরেকজন মন্তব্য করেন যে, যদি দুই ভাইবোন থাকে, তাহলে বাবা-মায়েরা সাধারণত বেশি উপার্জনকারীর পক্ষ নেন। এর আগে এই যুবকটি দীর্ঘ কাজের সময় এবং কাজের চাপে ক্লান্ত হওয়ার গল্পও শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তিনি বস, পরিবার এবং প্রেমিকা—তিন ধরনের মানুষের কাছে তাঁর পরিস্থিতি বোঝার আবেদন জানিয়েছিলেন।