মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির উত্তর মেলেনি! ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে কমিশন দপ্তরে তৃণমূল প্রতিনিধি দল

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নিবিড় প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision – SIR) নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতারা শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India – ECI) সদর দফতরে গিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সকাল ১১টায় তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের (Derek O’Brien) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করে।

এর আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় এসআইআর কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো জবাব না পাওয়ায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২৬ লক্ষ ভোটারের অসঙ্গতি:

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ভোটার তালিকায় প্রায় ২৬ লক্ষ মানুষের নাম ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিলছে না।

কীভাবে অসঙ্গতি ধরা পড়ল? ২০০৬ সালের পরে তৈরি করা তালিকার সঙ্গে সর্বশেষ ভোটার তালিকা ক্রস-ভেরিফাই করার সময় (এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে) এই বিপুল সংখ্যক গরমিল ধরা পড়েছে।

ম্যাপিং প্রক্রিয়া: বুধবার দুপুরের মধ্যে রাজ্যের ছয় কোটিরও বেশি গণনার ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়েছে। এই ডিজিটাইজ করা ফর্মগুলি এখন ‘ম্যাপিং’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, পুরানো এসআইআর রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করলে গরমিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কমিশনের আশ্বাস: তবে কমিশনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে এই গরমিল খুঁজে পাওয়ার অর্থ এই নয় যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে এই নামগুলি মুছে ফেলা হবে। আরও যাচাই-বাছাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেরলের সূচিতে বদল নয়:

এদিকে, কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রতন খলকর জানিয়েছেন, সেখানকার এসআইআর-এর সময়সূচী পরিবর্তন করা হবে না। খসড়া তালিকা নির্ধারিত ৯ ডিসেম্বরই প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও জানান, বিএলও-দের প্রশিক্ষণের অভাব দূর করা হবে এবং প্রবাসী ভোটারদের উদ্বেগ দূর করতে ‘নোরকা’-কে একটি বৈঠক ডাকার জন্য অনুরোধ করা হবে।