‘চরম চাপের’ ফলেই হার্ট অ্যাটাক! দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির অনুরোধ ফেরানোয় শিক্ষকের মৃত্যু, পরিবার কাঠগড়ায় তুলল প্রশাসনকে

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (Special Summary Revision) সংক্রান্ত কাজের চাপের কারণে ফের একজন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) মারা যাওয়ায় এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো চার। মুর্শিদাবাদে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে জাকির হোসেন নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের, যিনি বিএলও হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর জন্য কাজের প্রচণ্ড চাপকে দায়ী করেছেন।
কীভাবে ঘটল এই মৃত্যু?
মৃতের পরিচয়: মৃত জাকির হোসেন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং এসআইআর-এর কাজে যুক্ত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ: আত্মীয়রা দাবি করেছেন, জাকির হোসেন একইসঙ্গে এসআইআর এবং তাঁর নিয়মিত শিক্ষকতার কাজ সামলাতে গিয়ে “চরম চাপের” মধ্যে ছিলেন।
হাসপাতালে মৃত্যু: বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ: পরিবারের দাবি, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এসআইআর-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে অস্বীকার করায় তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ আরও বেড়েছিল।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো চার:
মুর্শিদাবাদের এই ঘটনার আগে, আরও তিনজন বিএলও মারা গিয়েছিলেন। পূর্ব বর্ধমানে একজন বিএলও হৃদরোগে মারা যান। এছাড়া, নদীয়ার চাপড়া এবং জলপাইগুড়ির মালবাজারে আরও দুই বিএলও কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
তৃণমূলের অভিযোগ: তৃণমূলের এক নেতা দাবি করেছেন, “মুর্শিদাবাদে আরও একজন বিএলও এসআইআর সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনের চাপের কারণে মারা গিয়েছেন। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা চার, এবং প্রায় ১৪ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
বিজেপির পাল্টা দাবি: বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বিএলওদের ওপর চাপ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা থেকে নয়, বরং রাজ্যের শাসক দলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।