মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে কড়া কমিশন, এনুমারেশান ফর্মে ভুল তথ্য দিলে FIR-এর হুঁশিয়ারি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে নতুন ভোটারদের অফলাইনে নাম তোলার সুযোগ আর থাকছে না। এতদিন পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন করা গেলেও, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন এই প্রক্রিয়ায় বদল আনা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, নতুন ভোটারদের এখন শুধুমাত্র অনলাইনে ফর্ম-৬ পূরণ করে নাম তোলার আবেদন জানাতে হবে।
আধার কার্ড বাধ্যতামূলক:
অনলাইনে নাম তোলার ক্ষেত্রে আধার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, যেহেতু ‘ই-সাইন’ (e-sign)-এর প্রয়োজন হবে, তাই আধার কার্ডের মাধ্যমে ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ৯ ডিসেম্বর নিবিড় সংশোধনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। এর পরেই নতুন ভোটারেরা তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে কড়া কমিশন:
অন্যদিকে, ভোটার তালিকা থেকে মৃতদের নাম বাদ দিতে কড়া পদক্ষেপ করছে কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি কেউ মৃত ভোটারের এনুমারেশান ফর্ম পূরণ করে জমা দেন, তবে তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এমনকি, কমিশন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক থেকে শুরু করে বুথ স্তরের আধিকারিক (BLO) — সকলের বিরুদ্ধেই আইনানুগ পদক্ষেপ করবে। অর্থাৎ, কমিশন চাইছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি হবে, তাতে কোনো মৃত ভোটারের নাম যেন না থাকে।
পশ্চিমবঙ্গে কতজন মৃত ভোটারের আধার কার্ড রয়েছে, সেই তথ্য ইউআইডিএআই (UIDAI) বা আধার কার্ড সংস্থা সবিস্তার রিপোর্ট আকারে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেই তথ্যকে জেলাভিত্তিক হিসাবে তৈরি করা হচ্ছে, যা খুব শীঘ্রই রাজ্যের ২৪টি জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হবে।
আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলেই রাজ্যে এই মুহূর্তে মৃত ভোটারের সংখ্যা কত, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। যদিও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এমন অনেকে আছেন যাঁদের ভোটার কার্ড ছিল কিন্তু আধার কার্ড ছিল না, সেই সংখ্যাও নেহাত কম নয়। নিরাপত্তার কারণেই কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে এই সংখ্যাগুলি প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না।