প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লাকে বড় পদে বসাল রাজ্য, সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন তৃণমূলের ‘নয়া সেনাপতি’

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লাকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে বসাতে চলেছে রাজ্য সরকার। তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হতে পারে। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদানের ছ’মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও রাজনীতির ময়দানে সেভাবে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছিল না উত্তরবঙ্গের এই দাপুটে নেতাকে। এবার তাঁকে পুনর্বাসিত করে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড় মাস্টারস্ট্রোক দিল তৃণমূল।

মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
তৃণমূল সূত্রে খবর, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জন বার্লাকে এই সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বিষয়ে জন বার্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সতর্কভাবে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে এখনও সরকারিভাবে কোনও নির্দেশ বা অর্ডার হাতে পাইনি। আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলে আমি অবশ্যই তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব।”

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরান এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কমিশনে ভাইস চেয়ারম্যানের দু’টি পদের মধ্যে একটি শূন্য ছিল। সরকার যাকে নিয়োগ করবে, তাঁরা তাঁকে স্বাগত জানাবেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদল ও পুনর্বাসন
জন বার্লার এই নতুন ইনিংসের নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদল। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে, বিশেষত আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চা বাগান এলাকায় জন বার্লা একটি অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে আলিপুরদুয়ার থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ায় তাঁর সঙ্গে বিজেপির দূরত্ব বাড়তে থাকে।

চলতি বছরের ১৫ মে নাটকীয়ভাবে দলবদল করেন তিনি। তৃণমূল ভবনে গিয়ে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর হাত ধরে ঘাসফুলে যোগ দেন তিনি। তৃণমূলে যোগদানের সময় থেকেই গুঞ্জন ছিল যে বার্লাকে রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হতে পারে। ১৪ অগস্ট একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশনের বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়, যা তাঁর নিয়োগের পথ কার্যত মসৃণ করে।

তৃণমূলের সুচিন্তিত কৌশল: ভোটের আগে জমি শক্ত করার লক্ষ্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে নিজেদের জমি শক্ত করতে জন বার্লার মতো নেতাকে কাজে লাগানো তৃণমূলের একটি সুচিন্তিত কৌশল। চা বাগান এলাকায় বার্লার নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক ও প্রভাব রয়েছে। এতদিন সাংগঠনিক পদে না দেখা গেলেও, সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যানের মতো সরকারি পদ দিয়ে তাঁকে পুনর্বাসিত করা হলো। এর ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলে সংগঠনকে মজবুত করতে শাসকদল এখন বার্লাকে পুরোদমে ব্যবহার করতে পারবে। সরকারি সিলমোহর লাগার পর নতুন ভূমিকায় তিনি কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার।