মকর সংক্রান্তি সামনে, রেকর্ড পুণ্যার্থী সামলাতে হাইটেক গঙ্গাসাগর মেলা, মুড়িগঙ্গায় ড্রেজিং শেষ করার কড়া নির্দেশ

সামনে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পঞ্চায়েত, পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও পূর্ত দফতরের সচিবরা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক উপস্থিত ছিলেন।
এদিনের বৈঠকের নির্যাস একটাই— সময় নষ্ট না করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত কাজ শেষ করতে হবে।
ড্রেজিং-এ কড়া নির্দেশ
এবারের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতার সমস্যা নিরসনে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনোভাবেই বাধা না হয়, সেজন্য মুখ্যসচিব কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, মেলা শুরুর অন্তত এক মাস আগেই ড্রেজিং বা পলি সরানোর কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
রেকর্ড ভিড়ের মোকাবিলা
এবারের গঙ্গাসাগর মেলা প্রশাসনের কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। যেহেতু এই বছর দেশে ‘মহা কুম্ভ’ যোগ নেই, তাই প্রশাসনের ধারণা, ভিন রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী এবার গঙ্গাসাগরে ভিড় জমাবেন। সেই বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনো ফাঁক রাখতে নিষেধ করেছেন মুখ্যসচিব।
হাইটেক ব্যবস্থা ও সুরক্ষা
মেলা চলাকালীন কুয়াশা নদী পারাপারে যে সমস্যা তৈরি করে, তা মোকাবিলায় এবার প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মেলার নিরাপত্তা ও আকর্ষণ বাড়াতে:
মেলা চত্বর ও লট এইট সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০০টি ফগ লাইট ও লেজার লাইট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, গোটা এলাকা উজ্জ্বল রাখতে এয়ারপোর্ট মানের ‘মুভিং লাইট’ বসানোর ভাবনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবহণ পরিষেবা
পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে:
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরকে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের জোগান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অস্থায়ী শেড ও ক্যাম্পে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিখুঁত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরী স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। কাছাকাছি হাসপাতালগুলিতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত অস্থায়ী শয্যা ও মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।
পরিবহণ দফতরকে সাগর তটে পৌঁছানোর পর কপিল মুনির আশ্রমে যাওয়ার জন্য বাসের অভাব যেন না হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মেলা শুরুর আগেই প্রস্তুতির হালহকিকত খতিয়ে দেখতে গঙ্গাসাগরে যাবেন। তাঁর সফরের আগেই যাতে সমস্ত কাজ নিখুঁতভাবে শেষ হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তিনি আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠকের জন্য কাজের অগ্রগতির খতিয়ান তৈরি করবেন।