কমলা পসন্দ মালিকের পুত্রবধূর আত্মহত্যায় চাঞ্চল্য, ‘মারধর ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক’-এর অভিযোগ তুলে স্বামী-শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ভাই

কমলা পসন্দ এবং রাজশ্রী পান মশলা নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার কমল কিশোর চৌরাসিয়ার পুত্রবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় এল। দিল্লির বসন্ত বিহার এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে ৪০ বছর বয়সী দীপ্তি চৌরাসিয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় মৃতার ভাই ঋষভ দীপ্তির স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন।
ভাইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপ্তির দাদা ঋষভ অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়িতে তাঁর বোনকে নিয়মিত মারধর করা হত। তিনি বলেন:
নির্যাতন: “ওরা আমার বোনকে মারধর করত। আমার বোনের শাশুড়ি ওকে মারধর করত। আমরা বোনকে নিয়ে কলকাতা ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু ওরা হাতজোড় করে বলেছিল আমার বোনকে মেয়ের মতো রাখবে। এর পরেও আমার বোনের উপরে অত্যাচার চলতে থাকে।”
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক: দীপ্তির ভাইয়ের অভিযোগ, দীপ্তির স্বামী হরপ্রীত চৌরাসিয়া (কমল কিশোরের বড় ছেলে) বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সম্প্রতি হরপ্রীত দক্ষিণ ভারতীয় এক অভিনেত্রীকে দ্বিতীয় বার বিয়ে করেছেন বলেও খবর।
মানসিক চাপ: ঋষভ বলেন, “আমার বোনের স্বামীও আবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। আমার বোন ফোনে আমাদের সব জানাত। এই সমস্ত চাপে আমার বাবার ব্রেন স্ট্রোক হয়ে যায়। এত নির্যাতন সহ্য করতে করতে আমার বোন শেষ হয়ে গিয়েছিল।”
দীপ্তির ভাই আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমার বোন আত্মহত্যা করেছে নাকি ওকে মেরে ফেলেছে আমি জানি না।”
পুলিশের তদন্ত ও সুইসাইড নোট
সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে পুলিশ একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে। সেখানেও দীপ্তির স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দীপ্তি চৌরাসিয়ার ২০১০ সালে হরপ্রীত চৌরাসিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের একটি ১৪ বছরের ছেলেও রয়েছে। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর পাওয়ার পর মানসিক অবসাদ থেকেই দীপ্তি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ধারণা।
আইনজীবীর পালটা দাবি: যদিও দীপ্তির ভাইয়ের সঙ্গে থাকা আইনজীবী দাবি করেন, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর দুই পরিবারই একজোট হয়ে রয়েছে। বোনকে হারানোর মানসিক যন্ত্রণা থেকেই দীপ্তির ভাই এই ধরনের অভিযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কমলা পসন্দ সংস্থার কর্ণধার কমল কিশোর চৌরাসিয়া ৪০-৪৫ বছর আগে কানপুরের একটি ছোট গুমটি দোকান থেকে খুচরো পান মশলা বিক্রি করে কয়েকশো কোটি টাকার এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তাঁর পুত্রবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক সংস্থার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।