সমালোচনার মুখেও আন্তর্জাতিক সম্মান! International IDEA-এর চেয়ারপার্সন হচ্ছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার

সম্প্রতি দেশের প্রায় সবকটি বিরোধী দলের আক্রমণের মুখে পড়া ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের মুকুটে এবার একটি আন্তর্জাতিক পালক যুক্ত হতে চলেছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (International IDEA)-এর ২০২৬ সালের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভারতের নির্বাচন কমিশনের
৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হতে চলা IIDEA-র কাউন্সিল অফ মেম্বার স্টেটস-এর বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং আগামী এক বছর সংস্থার সব কাউন্সিল সভার সভাপতিত্ব করবেন।
গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক: অনেকেই মনে করছেন এই চেয়ারপার্সনশিপ অর্জন ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে যে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) বিশ্বের অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য এবং উদ্ভাবনী নির্বাচন পরিচালন সংস্থা (EMB) হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত: ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত International IDEA বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা, যার ৩৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ভারত একটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
বিশ্ব গণতন্ত্রে নতুন দিশা দেখানোর সুযোগ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোটার তালিকার দেশ হিসেবে ভারতের অভিজ্ঞতা—প্রায় একশো কোটি ভোটার, সুসংহত ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার—এসবকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানেশ কুমার আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডলে নতুন দিশা দেখানোর সুযোগ পাবেন।
উদ্দেশ্য: নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে EMB-গুলির মধ্যে পেশাদার নেটওয়ার্ক মজবুত হবে এবং প্রমাণভিত্তিক নির্বাচনী সংস্কার ত্বরান্বিত হবে।
IIDEM-এর ভূমিকা: ভারতের নির্বাচন কমিশনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, IIDEM, ইতিমধ্যেই ২৮টি দেশের সঙ্গে MoU স্বাক্ষর করেছে এবং ১৪২টি দেশের ৩,১৬৯ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছে।
আগামী দিনে ECI ও IIDEA যৌথভাবে ভুয়ো তথ্য প্রচার, নির্বাচন সহিংসতা এবং ভোটার আস্থার সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করবে।