ভবিষ্যতের জাদুঘর? জেনেনিন কেমন হবে আর কোথায় রয়েছে ?

নাম তার মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার। ৭৭ মিটার উঁচু স্টেইনলেস স্টিলের রিং আকৃতির একটি ভবন। যার গায়ে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফির ধাতব প্লেট। এটি হলো সম্ভাব্য ভবিষ্যতের রোমাঞ্চকর নান্দনিক এক জাদুঘর। প্রযুক্তির উৎকর্ষে দুবাইয়ের সর্বাধুনিক স্থাপনাগুলোর চেয়েও অনেক অনেক বেশি এগিয়ে ভবিষ্যতের এই জাদুঘর। যা আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব। লিখেছেন নাসরিন শওকত

নান্দনিকতায় সেরা

জাদুঘর সাধারণত অতীতের ইতিহাস ও বর্তমান ঐতিহ্যের মেলবন্ধন । জাদুঘর এক প্রজন্মকে থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে বার্তা নিয়ে যায়। অসম্ভব শোনালেও এমন জাদুঘরও আছে যেখানে ভবিষ্যতের কথাও বলা হয়েছে। দুবাইয়ের মরুভূমির বুকে এমনই এক বিস্ময়কর জাদুঘরকে বাস্তব করে তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও রাজধানী দুবাই। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার এই শহরেই নির্মিত হয়েছে। নতুন এক জাদুঘর, মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার, যা নান্দনিক সৌন্দর্যে ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যে অনন্য। ঝকঝকে রুপালি রঙের এই জাদুঘরটি দুবাইয়ের প্রধান মহাসড়ক শেখ জায়েদ রোডে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। যার নির্মাণ প্রক্রিয়া ও কাঠামো বিস্মিত করেছে স্থানীয়দের এবং বিশ্বকে। গোল আকৃতির এ কাঠামোটি সত্যিকার অর্থেই আকার পেতে শুরু করে তখন যখন এর গায়ে আরবি হরফের ক্যালিগ্রাফির ধাতব প্লেটগুলো খোদাই করে যুক্ত করা শুরু হয়। তখন কারুকাজপূর্ণ এই নির্মাণশৈলী দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসতেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা।

নির্মাণশ্রমিকদের এক একটি দল ভবনটির এক একটি অংশে কাজ করতেন। প্রতিদিন দড়ির ওপর দাঁড়িয়ে খাড়া নিচে নেমে যাওয়া এর গোল বাঁকা গায়ে তারা আঁকতেন কখনো চোখ নয়তো ফোন ও ক্যামেরা। আর দূর থেকে তা দেখে বিস্মিত হতেন দর্শনার্থীরা, কী করছেন এই শ্রমিকরা? অবশেষে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে উদ্বোধন করা হয় মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুবাইয়ের শাসক মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম, ‘স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে নির্মিত ৭৭ মিটার উঁচু গোলাকার এই জাদুঘরটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ভবন’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এদিকে ভবন ও তার অন্দরসজ্জা-বিষয়ক মার্কিন ম্যাগাজিন আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট এর নাম দিয়েছে ‘তাৎক্ষণিক আইকন’। যেখানে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে আবিষ্কারের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্সটাগ্রামের সুবিধা রাখা আছে। ভবিষ্যতের এই জাদুঘরে সব বয়সীর জন্যই রয়েছে প্রবেশের সুযোগ। যেখানে দেখা ও স্পর্শের মাধ্যমে শেয়ার করা ভবিষ্যৎ তার রূপ পাবে। জাদুঘরে ব্যবহার করা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকেও প্রতিহত করতে সক্ষম। যে প্রযুক্তি সর্বাধুনিক।

নির্মাণশৈলী

পারস্য উপসাগরের উপকূলে মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে থাকা দুবাই যেন অপার এক বিস্ময়। যে বিস্ময়ের উৎস কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ, চোখ ধাঁধানো আলোকরশ্মি ও আকাশচুম্বি সব অট্টালিকা। সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত বিস্ময়কর সব স্থাপত্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে নতুন জাদুঘর মিউজিয়াম অক দ্য ফিউচার। দুবাইয়ের প্রথম সারির ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কিল্লা ডিজাইন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত জাদুঘর নির্মাণের জন্য পরিচিত। কিল্লা ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি হলেন শন কিল্লা। তিনিই মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচারের নকশা করেছেন। স্টেনলেস স্টিল, ক্যালিগ্রাফির ধাতব প্লেট ও অত্যাধুনিক নানা প্রযুক্তির উপকরণ দিয়ে ফিউচার অব দ্য মিউজিয়াম নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ছয় বছর। স্তম্ভহীন ৩ লাখ ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের প্রশস্ত এই ভবনটির আকৃতি খাড়া গোল রিংয়ের মতো। আর কাঠামোর ধরন জ্যামিতিক। ৭৭ মিটার উঁচু জাদুঘরটিতে রয়েছে সাতটি তলা। যেখানে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেখতে পাওয়ার মতো সম্ভাব্য ভবিষ্যতের নানা উপকরণের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। শন কিল্লা নকশাটি এমনভাবে করেছেন যাতে সেটি মোড়কের মতো দেখায় এবং বাস্তবেও ভবনটি তেমনই। স্টেইনলেস স্টিলে নির্মিত ভবনটির সামনের অংশের গায়ে আরবি আলো ছড়ানো ক্যালিগ্রাফি খোদাই করা। এই শিল্পকর্মটির শিল্পী মাত্তার বিন লাহেজ। ভবনটির কাঠামো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে এর যেকোনো আইকন ব্যবহার করতে গেলে তা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে (উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্সটাগ্রাম প্রযুক্তির মাধ্যমে) সাড়া পাওয়া যায়। তবে শুধু নান্দনিকতাই এই জাদুঘরটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, এমন নয়। বরং এখানে কাজ করেছে এর টেকসই মডেল, যা বিকল্প সৌর প্রযুক্তিতে চলবে। ফলে কম পানি ও কম জ্বালানির ব্যবহার হবে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে থাকা জাদুঘর মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার এতটাই সবুজ যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ভবন হিসেবে এটি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেটও পেয়ে যেতে পারে। বুর্জ খলিফার পরে জাদুঘর মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার বিশ্বে দুবাইয়ের জন্য আরেকটি শ্রেষ্ঠত্ব বয়ে এনেছে নিঃসন্দেহে।

জানা ও অজানা ভবিষ্যৎ

কিল্লা ডিজাইনের অংশীদার ও এই জাদুঘরের নকশাকার শন কিল্লা তার সম্ভাব্য ভবিষ্যতের নকশার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতের এই জাদুঘরের প্রতিটি তলায় রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, বিমান চালনা, সরকারি পরিষেবা ও মহাকাশ ভ্রমণের মতো ব্যবস্থা। সামনের দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এমন ভবিষ্যৎকেই আমরা দেখতে পাব বলে বুঝতে পারছি।’ শন কিল্লার মতে, ভবিষ্যতের জাদুঘরটি যে সবুজ গোল চাকার ওপর বসে আছে তা পৃথিবীকে প্রতিনিধিত্ব করছে। আর এর সঙ্গে জুড়ে থাকা পুরো ভবনটি মানবিকতার প্রতীক। কিন্তু মাঝের শূন্য স্থানটি প্রতিনিধিত্ব করছে, যা আমরা এখনো জানি না অর্থাৎ, সেটিই আমাদের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ।

আবার অন্যভাবে বলতে গেলে অজানা। শন কিল্লা তার নির্মাণ আদর্শের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘যে মানুষরা অজানাকে জানতে চান, তারাই কোনো কিছু নির্মাণ বা আবিষ্কার করে থাকেন। কালের পরিক্রমায় এরাই ধারাবাহিকভাবে জাদুঘরটিকে সংরক্ষণ করবেন। কারণ যেকোনো অজানা কারণেরই চিরস্থায়ী ধারাবাহিকতা রয়েছে। এ কারণেই ওখানে শূন্য স্থানটি রাখা হয়েছে। আপনি যদি আমাদের ভবিষ্যৎকে বুঝতে পারেন, তাহলে আপনি এমন কিছু অর্জন করেছেন, যা সেখানে নেই।’ এটাই অস্তিত্ববাদের উপাদান। পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা, যা দর্শনার্থীদেরকে নিকট ভবিষ্যতের কল্পনায় নিয়ে যায়। জাদুঘরটির গুহার মতো দেখতে লবিতে পেঙ্গুইন আকৃতির একটি ড্রোন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। আর রয়েছে একটি লিফট, যা মহাকাশ যান হিসেবে ছদ্মবেশে চলাচল করছে। লিফটি ওএসএস হোপ মহাকাশ স্টেশনের মাধ্যমে প্রতি চার মিনিট পরপর দর্শকদের পৃথিবী থেকে ৬০০ কিলোমিটার ওপরে ও ৫০ বছর পরের ভবিষ্যতে পাঠাচ্ছে।

এখানে একটি লাইব্রেরিও আছে। যেখানে স্মার্ট ডিভাইসে করে সাড়ে ৪ হাজার প্রাণীর ডিএনএ কোড ‘সংরক্ষণ করা’ আছে। আরও রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির এলাকা। যেখানে স্পর্শ করার জন্য ‘কালো আয়না’ রাখা আছে। যাতে স্পর্শ লাগার সঙ্গে সঙ্গেই সাইবার ডগ থেকে শুরু করে আন্ডার-স্কিন পেমেন্ট চিপ, ভাইরাস-প্রতিরোধী পোশাক ও রোবট থেকে ভয়ংকর সাইরেন বাজতে থাকে। জাদুঘরটির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বলেছেন, ‘সাততলার দর্শনীয় মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার মানুষকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করছে। যাতে তারা অনুভব করতে পারে যে ভবিষ্যৎ তাদেরই।’ তবে ভবনটির প্রকৃত সৌন্দর্য হলো এর অবস্থান। জাদুঘরটি দ্রুতই আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথে। এদিকে শন কিল্লা আরো বলেন, যদি এর আকৃতি নিখুঁত ডিম্বাকৃতির হতো, তবে এটিকে এইভাবে তৈরি করা যেত না।

ভবিষ্যতের জানালা

আরবি হরফের ক্যালিগ্রাফি দিয়ে পুরো জাদুঘর ভবনটি ঘিরে রাখা। দূর থেকে ক্যালিগ্রাফির ওই প্লেটগুলোকে দেখলে শুধুই কারুকাজ বলে মনে হয়। তবে ওগুলো এক একটি জানালারও কাজ করে। ক্যালিগ্রাফির স্ক্রিপ্টটি লিখেছেন আমিরাতের শিল্পী মাত্তার বিন লাহেজ। শেখ মোহাম্মদের লেখা তিনটি উদ্ধৃতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এই স্ক্রিপ্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় উদ্ধৃতিটি হলো ‘ভবিষ্যৎ তাদেরই জন্য যারা তা কল্পনা করতে পারে, এটি নকশা করতে পারে ও কাজ হিসেবে তা করে দেখাতে পারে। তা এমন কিছু নয় যা সৃষ্টি করার পরিবর্তে তার জন্য আপনি অপেক্ষা করেন।’ শিল্পী লাহেজ ক্যালিগ্রাফিটিকে প্রথমে ধ্রুপদী থুলুথ আরবি লিপিতে হাতে এঁকেছিলেন। তিনি এই জাদুঘরটিকে ভবন হিসেবে নয় বরং ‘একটি শিল্পকলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ক্যালিগ্রাফির উদ্ধৃতি বসানোর ক্ষেত্রে এর টেরাস-গড়নটি বেশ জটিল হয়ে ওঠে।

লাহেজ বলেন, ‘এর টেরাসের কোনো কোনা না থাকায় বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তখন ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরো ডিম্বাকৃতির ভবনটিতে কীভাবে তিনটি উদ্ধৃতিকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায় তাই ভাবিয়েছে বেশি।’ তিনি আরও বলেছেন, বিষয়টি স্থপতি কিল্লা ও তার দলের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। ‘আমাদের সাড়ে চার মাস সময় লেগেছে শুধু প্যারামেট্রিকভাবে নকশা করা একটি চ্যাপ্টা ভবনকে কীভাবে সমতলে নেওয়া যায় ও সেটিকে কীভাবে জুড়ে রাখা যায় এই সিদ্ধান্তে আসতে। কারণ নকশাটি ছিল ‘সমতল ভূমি’ ছাড়া একটি শূন্য বৃত্তের মধ্যে পুরো ভবনটিকে দাঁড় করিয়ে রাখার।’ কিল্লার মতে, একপর্যায়ে তারা চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিষয়টির সমাধান করেন। তিনি বলেন, ‘ডাইনোসরের গায়ে পশম লাগাতে গেলে যে ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় এই সফটওয়্যারটি তেমনই।’ তার দল এই সফটওয়্যার কৌশলে ব্যবহার করে জাদুঘরের পুরো ভবনটিকে বিভিন্ন টুকরো করেন এবং ওপরের অংশটিকে এমনভাবে ‘তুলে নেন’ যেন তার নিচে কোনো ‘সমতল ভূমি’ই ছিল না কখনো।

নকশা চূড়ান্ত

ভবিষ্যতের জাদুঘরের নকশা চূড়ান্ত করতে প্রতিযোগিতাতেও নামতে হয়েছিল কিল্লা ডিজাইনকে। ছয় সপ্তাহে কয়েকটি ধাপের প্রতিযোগিতা পার করে অবশেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয় তাদের জমা দেওয়া নকশা। এর আগে মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচারের নকশা চূড়ান্ত করতে স্থপতি কিল্লার পুরো দলকে টানা তিন সপ্তাহ রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছিল। সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শন কিল্লা বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে নকশা নিয়ে তার ডাইনিং টেবিলের ওপর কাজ চলছিল। আমি তাদের দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল এই দল যথেষ্ট নয়। তখন আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, তাদের কেউই শেখ মোহাম্মদের দূরদর্শী উদ্ধৃতি লক্ষ্যকে ধরতে পারছে এবং আমার তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না যে তাদের কেউই এই প্রতিযোগিতা জয় করার মতো সামর্থ্য রাখে।

পরের দিন যথারীতি প্রতিযোগিতার চতুর্থ সপ্তাহে গড়াল। তখনো আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না কিছুতেই। আমি রেকর্ডারে একটি অসাধারণ গান ছেড়ে দিয়ে সেখানে বসলাম। মগ্ন হয়ে তার অপার্থিব সুর উপভোগ করলাম। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১টা ছুঁয়েছে। এবার আমি সেই নকশা আঁকা শুরু করলাম, যা এখন ফ্রেম হয়ে আমার অফিসের দেয়ালে ঝুলছে। পুরো নকশাটা আঁকার জন্য ভাবলাম, এটাই সেই নকশা যা আমি চাইছিলাম। এবার নকশাটির একটি ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে করে থ্রিডি মডেল নিয়ে কাজ করে এমন ব্যক্তির কাছে পাঠালাম। আমার দায়িত্ব শেষ ভেবে এবার বিছানায় ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু সকালে হোয়াটসঅ্যাপে জবাব এলো, ‘এটা কী, আমি বুঝতে পারছি না।’ থ্রিডি মডেলের ওই ব্যক্তিকে নকশার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। নির্ভুল করার জন্য নকশাটির ওপর নতুন করে এক মিলিমিটারের কাজ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা এমন একটি নকশা হয়ে ওঠে, যা প্রতিযোগিতায় জয় ছিনিয়ে আনে।

স্টিলের তৈরি জাদুঘরের ভবনটি ডায়াগ্রাম কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে। এর ভেতরের পুরো জায়গা কোনো স্তম্ভ ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির জমিনে ১ হাজার ২৪টি প্যানেল রয়েছে, যার ডেটার সংখ্যা ১ কিলোবাইট। এই প্যানেলগুলো আবার কম্পিউটারের নিউমারিক কন্ট্রোল মেশিনের মাধ্যমে কাটা হয়। যার প্রতিটির আকার ভিন্ন। জাদুঘরের লবিতে সর্পিল যে সিঁড়ির ধাপ রয়েছে তা বিশে^র সবচেয়ে লম্বা দুই লাইনের প্যাঁচানো সিঁড়ি।