কন্যা সন্তান বলেই ছুঁড়ে ফেলা হলো? মালদহের ধানক্ষেত থেকে ব্যাগে ভরা সদ্যোজাত শিশু কন্যার দেহ উদ্ধার, নির্মম অমানবিকতায় ক্ষোভ

মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ভিঙ্গল গ্রামে সম্প্রতি এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ধানক্ষেত থেকে ব্যাগে ভরা অবস্থায় একটি সদ্যোজাত শিশুকন্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদহের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে—কন্যা সন্তান বলেই কি এই নৃশংস কাজ করা হয়েছে?
ঘটনার বিবরণ: সোমবার সকালে ভিঙ্গল গ্রামের ধানক্ষেতে ধান কাটতে এসে স্থানীয় কয়েকজন প্রথমে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। কৌতুহলবশত ব্যাগ খুলতেই নজরে আসে সদ্যোজাত শিশুকন্যার নিথর দেহ।
মৃত্যুর কারণ অনুমান: শিশুটির মাথার পেছনে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল এবং দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গ্রামবাসীদের প্রাথমিক অনুমান, জন্মের পর শিশুটিকে ব্যাগে ভরে রাস্তার দিক থেকে ধানক্ষেতে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে, যার ফলে মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে তার মৃত্যু হয়েছে।
ট্যাগ ও প্রমাণ: শিশুটির শরীরে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের ট্যাগ মিলেছে। সঙ্গে ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল একটি ব্যাগ ও কাপড়।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন: এই নির্মম ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ভিড় জমাতে থাকেন গ্রামবাসীরা। অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, কেবল কন্যা সন্তান হওয়ার কারণেই কি এভাবে শিশুটিকে ফেলে দেওয়া হলো? এই অমানবিকতায় স্থানীয় মানুষজন ক্ষোভে ফুঁসছে।
স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য: ভিঙল গ্রামের বাসিন্দা শেখ আলম বলেন, “এভাবে সদ্যজাত শিশুকে ফেলে যাওয়া সত্যিই হৃদয়বিদারক… এমন অমানবিকতার কোনও ক্ষমা নেই।”
পুলিশি তৎপরতা: খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
তদন্তের গতি: পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির জন্ম কোথায় হয়েছে এবং কে বা কারা এমন নৃশংস কাজ ঘটিয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।