আট বছর ধরে ঘর নেই! দুয়ারে ICDS সেন্টার, খোলা আকাশের নীচে রান্না, টিফিন বক্সে খাবার বিলি হয় পশ্চিম মেদিনীপুরে

খাতা-কলমে নাম রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের (ICDS Centre) ভবন নেই। প্রায় আট বছর ধরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের শোলা দুই গ্রামের শোলা ৩ নম্বর ২১১ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি এভাবেই চলছে। নিজস্ব ঘর না-থাকায় এখানে শিশুদের পড়াশোনার বালাই নেই।
‘দুয়ারে আইসিডিএস’ কেন্দ্রের করুণ চিত্র:
এই কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত ৫৭ জন শিশু ও প্রসূতিকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু ভবন না-থাকায় রান্না হয় গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে ঘুরে লোকের বাড়িতে অথবা খোলা আকাশের নীচে। এরপর সেই রান্না করা খাবার টিফিন বাক্সে ভর্তি করে নিয়ে যান অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নাম লেখানো শিশু ও প্রসূতিদের পরিবারের সদস্যরা।
কর্মী অনুপস্থিত: কেন্দ্রের একমাত্র কর্মী দিপালী করণ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার কারণে কেন্দ্রে আসেন না। তাঁর পরিবর্তে স্বামী যুধিষ্ঠির করণ কোনোমতে কেন্দ্রটি চালান। তিনি বলেন, “আমাদের রান্না করার জায়গা নেই দীর্ঘ আট বছর ধরে। আমি এই বাড়িতে দু’মাস, ওই বাড়িতে দু’মাস এভাবে বাইরে বাইরে রান্না করে বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দিই।”
খাবারের গুণগত মান নিয়ে আতঙ্ক:
এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিভাবক মাম্পিয়া খাতুন ও আতাউল খান’রা বলেন,
“আট বছর ধরে এভাবেই চলছে। আমরা খাবার নিতে আসি ঠিকই, কিন্তু এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। এই খাবার আমরা ভয়ে ভয়ে বাচ্চাকে খাওয়াই না, বড়রা খায় বা খাবারটা নিয়ে গিয়ে ফেলে দিই। কারণ খোলা আকাশের নীচে এই খাবার রান্না হয়।”
তাঁরা একটি স্থায়ী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরির দাবি জানিয়েছেন, যেখানে শিশুরা পড়াশোনা ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারে।
রাজনৈতিক তরজা:
আইসিডিএস কেন্দ্র তৈরি না হওয়ার কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি তরজা।
তৃণমূলের অভিযোগ: চন্দ্রকোনা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সূর্যকান্ত দলুই বলেন, “আমরা চাইছি খুব দ্রুত টেন্ডার ডেকে আইসিডিএস কেন্দ্র তৈরি করে এই সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি হয়নি এর মূলেও সেই বিজেপি। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার তার বলপ্রয়োগ করে সমস্ত প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে।”
বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ: বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক নন্দ নিয়োগ পালটা বলেন, “তৃণমূল এখন এসব আইসিডিএস সেন্টার বানায় না, তারা খেলা মেলা নিয়ে মত্ত। এই ব্যাপারটা বর্তমানে মানুষজন বুঝেছে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভবন নির্মাণ হলে স্থায়ী ঠিকানা হবে ঠিকই, কিন্তু কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব এভাবেই একজন মহিলা কর্মীর স্বামীর উপর থাকবে কি?