SIR-এর মিটিংয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড, সাংসদের সামনেই অঞ্চল সভাপতিকে ঘিরে বিক্ষোভ, শতাব্দী রায়ের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়লেন মহিলারা!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে চলে এল। এবার এই দ্বন্দ্বের জেরে বীরভূমের সিউড়িতে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে জুতো ছুঁড়ে মারা হল বলে অভিযোগ। সাংসদ যদিও দাবি করেছেন, দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও ভিড়ের মধ্যে সিপিএম ও বিজেপির কর্মীরা মিশে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন।

সিউড়িতে ধুন্ধুমার:

বৃহস্পতিবার SIR আবহে সিউড়িতে একটি ‘ভোটরক্ষা শিবির’ পরিদর্শনে যান তৃণমূল সাংসদ। সেখানেই স্থানীয় কোমা অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি চরমে উঠলে সাংসদ বলরাম বাগদিকে নিজের গাড়িতে তুলে নেন। এর পরই উত্তেজনা আরও বাড়ে। বিক্ষোভকারীরা সাংসদের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ভিড় থেকে সাংসদের গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো ছুঁড়ে মারা হয়।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না অন্য দলের ইন্ধন?

সাংসদ শতাব্দী রায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “আপনাদের ভুল হচ্ছে। যে ছেলেটি ঝামেলা পাকিয়েছে সে সিপিআইএমের বিএলএ-২। আর যিনি গাড়ির সামনে শুয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সেই মহিলাকে একাধিকবার বিজেপি নেতাদের পাশে ছবি দেখা গিয়েছে। তাঁরা যে আমাদের পক্ষে কথা বলবেন না সেটাই স্বাভাবিক।” তবে তিনি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছেই, থাকবেই। কিন্তু, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে সঙ্গে এই লোকগুলোও আছে, যারা অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত।”

কেষ্ট-কাজল দ্বন্দ্বই মূল কারণ:

এই ঘটনাটি সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নুরুল ইসলাম (বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের অনুগামী) এবং কোমা অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদির (অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী) দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। অনুব্রত মণ্ডল গরুপাচার মামলায় জেল থেকে ফেরার পর থেকে এলাকায় নিজের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। এই থেকেই অনুব্রত (কেষ্ট) ও কাজল শেখের অনুগামীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার একজোট হওয়ার বার্তা দিলেও, স্থানীয় স্তরে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছেই। তারই ফলস্বরূপ এবার সাংসদের গাড়িতে জুতো ছুঁড়ে মারার মতো ঘটনা ঘটল।