পূর্ব বর্ধমানের একটি গ্রামে অন্য ছবি, 2002 সালের তালিকায় নাম নেই অর্ধেকেরও বেশি ভোটারের, তবু কেন নেই ভয়?

স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকায় নাম না-থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যখন আতঙ্ক ও দেশ ছেড়ে পালানোর খবর শিরোনামে, ঠিক তখনই অন্যরকম ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী-২ ব্লকের চাঁপাতলায়। এখানকার বেশিরভাগ গ্রামবাসীই SIR নিয়ে বিচলিত নন। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা: “ভয় পেয়ে আর কী হবে, মরলে এখানে মরব, আর বাঁচলে এখানেই বাঁচব।”
পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলা-১ পঞ্চায়েতের ১৯৭ নং বুথে মোট ভোটার প্রায় ৯৫০ জন। এর মধ্যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অর্ধেকেরও বেশি ভোটারের নাম নেই। তবে অনেকের বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম সেই পুরোনো তালিকায় রয়েছে। আবার অনেকেই আছেন, যাঁদের ২০০২-এর তালিকায় নাম না-থাকলেও পরবর্তী সময়ে (যেমন ২০০৪-০৫) নাম উঠেছিল এবং তাঁরা নিয়মিত ভোটও দিয়েছেন।
কেন নেই আতঙ্ক?
এই গ্রামবাসীদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে এদেশে চলে এসেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ওপার বাংলায় আর তাঁদের কিছুই নেই। নেপাল দাস নামে এক গ্রামবাসী বলেন, “ছোটবেলায় বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়ে এই দেশে চলে আসি। তাই এখন আর কোনও ভয় লাগছে না। কীসের ভয়? বাংলাদেশে আমাদের ঘটি-বাটি কিছুই নেই। আর কোথাও যাব না, মরলে এখানে মরব আর বাঁচলে এখানেই বাঁচব।” আরেক গ্রামবাসী সুমন দাস বলেন, তাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই আছে এবং সরকার যা ভালো বুঝবে সেটাই করবে।
তবে, আতঙ্ক যে একেবারেই নেই তা নয়। নিখিল দাস নামে একজন গ্রামবাসী কিছুটা ভয় প্রকাশ করে বলেন, “অনেকে বলছে নাম না থাকলে নাকি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। ভোটার, আধার, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাকি সব বাতিল করে দেবে।”
প্রশাসন ও তৃণমূলের আশ্বাস:
এই পরিস্থিতিতে কালনার মহকুমাশাসক অহিংসা জৈন গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের অহেতুক চিন্তা করার কিছু নেই। বেশ কিছু নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আছে। তাঁরা যেন অহেতুক আতঙ্কিত না হন।”
কালেখাঁতলা-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল সভাপতি অজিতকুমার ঘোষও বলেন, “আমরা চাই যাঁদের ২০০২-এর তালিকায় নাম নেই, অথচ পরবর্তী সময়ে নাম আছে, তাঁদের প্রতি নির্বাচন কমিশন সহানুভূতিশীল হোক। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না-যায়, সেটাই কাম্য।”