প্রতি বছর ১ লক্ষের বেশি বেজি হত্যা! পেইন্টব্রাশ চোরাচালান ধরতে ZSI বিজ্ঞানীদের ‘ট্রাইকো-ট্যাক্সোনমি’ ব্রহ্মাস্ত্র

ভারতে প্রতি বছর উচ্চমানের পেইন্টব্রাশ তৈরির জন্য বেআইনিভাবে লক্ষাধিক বেজি হত্যা করা হয়। এই অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য রুখতে এবার এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করলেন জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ZSI) বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ‘Discover Conservation’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায়, ভারতের ছয়টি বেজি প্রজাতির লোম দ্রুত শনাক্ত করার জন্য প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘ট্রাইকো-ট্যাক্সোনমিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা’ উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই নতুন ‘লোম-ভিত্তিক’ পদ্ধতিটি অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য দমনে তদন্তকারী সংস্থাগুলির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে চলেছে। বেজির লোম ছোট মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণীর লোম। এই প্রাণীগুলি ইঁদুর, সাপ এবং অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ভারতে স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ, ইন্ডিয়ান গ্রে মঙ্গুজ, স্ট্রাইপ-নেকড মঙ্গুজ-সহ মোট ছয় প্রজাতির বেজি পাওয়া যায়।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষণায় উঠে এসেছে, মাত্র ১ কিলোগ্রাম ব্যবহারের উপযোগী বেজি লোম সংগ্রহ করতে প্রায় ৫০টি বেজিকে হত্যা করা হয়। এই লোম থেকে তৈরি ব্রাশগুলি ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চোরাচালান করা হয়। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা এবং উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু হয়ে এই পাচার চলে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী বেজি সংরক্ষিত প্রাণী হলেও, পাচার হওয়া সামগ্রী থেকে লোম শনাক্ত করা কঠিন ছিল। কারণ, ব্রাশ তৈরির সময় লোমের ফলিকল অংশ সরিয়ে দেওয়ায় নিউক্লিয়ার DNA পাওয়া যেত না, এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মাইটোকন্ড্রিয়াল DNA-ও নষ্ট হয়ে যেত। এই পরিস্থিতিতে, লোমের গঠন (ট্রাইকো-ট্যাক্সোনমি) দ্বারা শনাক্তকরণই দ্রুততম ও কার্যকরী পদ্ধতি।

ZSI-এর গবেষক বিজ্ঞানী ড. এম. কমলাকান্নান জানিয়েছেন, “এই লোম-ভিত্তিক প্রজাতি শনাক্তকরণ পদ্ধতি অবৈধ বেজি লোম বাণিজ্য রোধে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে সাহায্য করবে এবং এটি একটি স্বল্পব্যয়ী কার্যকরী পথ।” ZSI-এর পরিচালক ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় এই গবেষণাকে দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন্যপ্রাণী ফরেনসিক সক্ষমতা আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে সহায়ক বলে উল্লেখ করেছেন।