ঐতিহাসিক মুহূর্ত মান্ডিতে! বাঞ্জার উপত্যকা থেকে শহরে প্রথমবার এলেন লোকদেবতা বুশহরা খোড়ু হনুমান!

মঙ্গলবার, হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল। লোকদেবতা বুশহরা খোড়ু হনুমান বাঞ্জার উপত্যকা থেকে প্রথমবারের মতো মান্ডিতে সফরে এসেছেন। দেব ঐতিহ্যে এই আগমনকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয় এবং এটি মান্ডির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ এনেছে।

অতিথি দেবতা ও ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ:

এই অনুষ্ঠানে স্নোর অঞ্চলের শ্রদ্ধেয় দেবতা গণপতি জল এবং দেবী নিশু পরাশরীও বাবা ভূতনাথের শহরে পৌঁছেছেন। তাঁরা পুরাণী মান্ডির জগ জননী মন্দিরে দেওলিতে অংশগ্রহণ করার জন্য এসেছেন। গণপতি জল এই বছর জনসাধারণের গণেশ উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, কিন্তু এখন তিনি তাঁর পুরো দলবল নিয়ে মান্ডিতে আসায় ভক্তদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে।

মা জগ জননীর দরবারে এই অতিথি দেবতাদের উপস্থিতি পুরো মন্দির প্রাঙ্গণকে এক ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে ভরিয়ে দিয়েছে। দেবতাদের আগমনের সাথে সাথে ঢোল, তূরী, করনাল, শেহনাই এবং ঘণ্টার মঙ্গলময় শব্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিশাল গ্র্যান্ড দেব জালেব:

বিকেলে পুরাণী মান্ডি থেকে ভুয়ুলিতে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা ‘গ্র্যান্ড দেব জালেব’ নামে পরিচিত। মা জগ জননী, গণপতি জল এবং নিশু পরাশরী ব্যক্তিগতভাবে এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। প্রায় এক হাজার পুরোহিতের অংশগ্রহণ উদযাপনটিকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ করে তোলে। ভুয়ুলির পরা প্রকৃতি ভগবতী ভীমকালী মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দেবতাদের স্বাগত জানানো হয়।

স্থানীয়রা বলছেন যে দেব সংস্কৃতির এই মনোমুগ্ধকর ঝলক আগে কেবল গ্রামাঞ্চলে দেখা যেত, কিন্তু প্রথমবারের মতো গ্রামীণ ধাঁচের এই দেব জালেব শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মানুষ বিশেষ উৎসাহী ছিলেন। এতে প্রমাণিত হয় যে আধুনিকতার মধ্যেও পাহাড়ি সংস্কৃতি নিরাপদ ও প্রাণবন্ত রয়ে গেছে।

এই মেলায় দেবতাদের সাথে আসা মানুষরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঢোল ও করতালের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন, যা মান্ডির ঐতিহাসিক সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।