আকাশে ছাইয়ের মেঘ, বিমানবন্দরে চরম সতর্কতা! সেমেরুর তাণ্ডবে কাঁপছে বালি সংলগ্ন এলাকা

ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় আবারও জেগে উঠেছে সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলির মধ্যে অন্যতম সেমেরু। বুধবার দুপুরে পূর্ব জাভার সেমেরু পাহাড়ে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে মুহূর্তেই আকাশ ঘন ছাইয়ে ঢেকে যায়। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং বিপদাপন্ন এলাকাগুলো দ্রুত খালি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সেমেরু আগ্নেয়গিরি থেকে ৫.৬ কিলোমিটার (৩.৪৮ মাইল) উঁচু ছাইয়ের মেঘ আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরির ক্রমাগত অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাই আকাশের ১৩ কিলোমিটার ওপর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এর প্রভাবে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকার আকাশ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে আসে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা খালি ও সতর্কতা:

ভূ-তাত্ত্বিক সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাউন্ট সেমেরুর চূড়ার ৮ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষকে যেকোনো ধরনের কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাথর বা অগ্ন্যুগোলারূপী লাভা ছিটকে এসে যাতে প্রাণহানি না ঘটে, তাই বাসিন্দাদের আগ্নেয়গিরি থেকে ২.৫ কিলোমিটার (১.৫৫ মাইল) দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঝুঁকি কমাতে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির পাশের দুটি গ্রামের প্রায় ৩০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত পুরো অঞ্চলটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিমান চলাচলে প্রভাব ও ভূতাত্ত্বিক আশঙ্কা:

সেমেরু আগ্নেয়গিরি বালি থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আকাশের ১৩ কিমি ওপর পর্যন্ত ছাই ছড়িয়ে পড়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে এসেছে এবং বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ ছাইয়ের কারণে শ্বাসকষ্ট এবং চোখের জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায় ১৫০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেমেরুর বর্তমান অগ্ন্যুৎপাত বড় ধরনের ভূকম্পন বা পরবর্তী ধাপে আরও শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাতের ইঙ্গিত হতে পারে। ২০২১ সালে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৫০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।