ডাক মেলেনি ইন্টারভিউয়ে, ফের সুপ্রিম কোর্টের-পথে ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা আবারও আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন। গত ৩ এপ্রিলের রায়ের কিছু অংশের পরিমার্জন ও নিজেদের চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে আজ, বৃহস্পতিবার, তাঁদের একাংশ কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করতে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একলপ্তে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়। এরপরে রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) রিভিউ পিটিশন দাখিল করলেও শীর্ষ আদালত তা খারিজ করে দেয়। এই অবস্থায়, ন্যায়বিচারের শেষ রাস্তা হিসেবে কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই শিক্ষকরা।

আইনজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ে যদি গুরুতরভাবে ন্যায়ের ব্যতিক্রম (Gross violation of natural justice) ঘটে থাকে, তবেই কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করা যায়। এটি ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৭ দ্বারা স্বীকৃত সাংবিধানিক অধিকার।

❓ ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের মূল দাবি কী?

শিক্ষকদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তাঁদের বর্তমান চাকরি এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে। কিন্তু নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় ইন্টারভিউয়ের তালিকায় তাঁদের অনেকেরই ডাক আসেনি। এর ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

‘যোগ্য’ শিক্ষকদের আইনজীবী শুভজিৎ দাস জানান, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের আগে এসএসসি বা রাজ্য সরকার আদালতে স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি, ঠিক কতজন ‘টেন্টেড’ বা দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থী ২০১৬ সালের প্যানেলে ছিলেন। সেই কারণেই আদালত ২৬ হাজার জনের চাকরিই বাতিল করে দেয়।

শুভজিৎ দাস বলেন, “এখন আমাদের কাছে এসএসসি-র যাচাই করা ‘টেন্টেড’ তালিকা রয়েছে। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা যোগ্য। আমাদের পুরোনো চাকরিটা ফিরে এলেই এত ঝামেলা আর থাকবে না। ফ্রেশাররাও সুযোগ পাবেন।”

⚠️ ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট’ টিচারদের ঘোর অনিশ্চয়তা

এই আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মধ্যে ১৭৫ জন এমন আছেন, যাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নতুন একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষায় বসে ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি। এর মধ্যে ১৪৮ জন শিক্ষক এমন, যাঁরা একাদশ-দ্বাদশের ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট’ টিচার। অর্থাৎ তাঁরা নবম-দশমের পরীক্ষাতেও বসতে পারেননি। ইন্টারভিউয়ে ডাক না পাওয়ায় ডিসেম্বরের পরে তাঁদের আর কোনো চাকরিই থাকছে না।

😠 ‘বঞ্চিত’দেরও হাল ফিরল না

 

অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৪০০ দিন ধরে আন্দোলন করা সেই ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টে থাকা তথাকথিত ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীরাও হতাশ। তাঁদের আন্দোলনের ফলেই এই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছিল।

তাঁদের তরফে শহিদুল্লাহ জানাচ্ছেন, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁদের হাতে গোনা দু-একজনেরই একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ে ডাক এসেছে। বয়স পেরিয়ে যাওয়া এবং বঞ্চিতদের জন্য কোনো ছাড় না থাকার কারণেই এই অবস্থা বলে অভিযোগ তাঁদের। নবম-দশমের ফলাফল এখনও প্রকাশ না হলেও, তাঁরা আশার আলো দেখছেন না।