হিজাব বিতর্ক: ইরানে আরও জোরালো হচ্ছে আন্দোলন, চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীরা

পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যু ঘিরে ইরানজুড়ে টানা চার সপ্তাহ ধরে সরকারবিরোধী যে বিক্ষোভ চলছে তাতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ শিশুও রয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে চলমান বিক্ষোভে তেল শ্রমিকরাও যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে দমনাভিযানে জড়িতদের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছে জার্মানি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
ইরান হিউম্যান রাইটসের বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভে শনিবার পর্যন্ত অন্তত ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নিহতের ঘটনা ঘটেছে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে। তবে দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় হতাহতের ঘটনা দেরিতে প্রকাশ পাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, রোববার স্থানীয় সময় ভোরেও ইরানের অনেক শহরে বিক্ষোভ হয়। যেখানে অংশ নেন শত শত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও গোলাবারুদ উপেক্ষা করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। রোববার দেশটির রাজধানী তেহরানের কয়েকটি রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া অবরোধের ডাকে দেশটির অনেক স্থানেই বন্ধ রয়েছে দোকানপাট।
এদিকে এবার তেল শ্রমিকরা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। তেল কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের সংগঠন সোমবার বিবৃতিতে বলেছে, আমরা আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলাম, আমাদের সচেতন এবং সাহসী কর্মীরা জনগণের ওপর দমনপীড়ন ও হত্যার মুখে নীরব ও নিষ্ফ্ক্রিয় থাকবেন না। তাঁরা জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এটি শুরু হয়ে গেছে। আমরা সারাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। অন্যদিকে চলমান বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ইরানের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা ও তাদের সম্পদ জব্দ করা নিশ্চিত করবে জার্মানি।