ডান্স বাংলা ডান্সের মঞ্চ থেকে সোজা অভিনয়ে! ক্লাস সিক্সের রাজন্যা এখন বাংলা সিরিয়ালের নতুন তারা

২০২৩ সালের ‘ডান্স বাংলা ডান্স সিজন ১২’-এর বিজয়ী রাজন্যা সাধু এখন বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত কাজ করে চলেছেন। বড়দের বিভাগে দিশা মণ্ডল এবং ছোটদের মধ্যে স্নেহাশ্রিতা, সুমন ও রাজন্যার জয়লাভের পর, ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন্স’ খেতাবটি বাগিয়েছিল স্নেহাশ্রিতা এবং রাজন্যা। গোবরডাঙার মেয়ে, ক্লাস সিক্সের ছাত্রী এই নৃত্যশিল্পী বর্তমানে নাচের পাশাপাশি সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে অভিনয় ও পড়াশোনা।
টেলিভিশনে রাজন্যার কাজের তালিকা
ডান্স ফ্লোর থেকে সোজা অভিনয়ে এসে রাজন্যা ইতিমধ্যেই তার কাজের ছাপ রেখেছে। তার কাজের তালিকায় রয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘লজ্জা’, যেখানে সে জয়ার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছে। ধারাবাহিক ‘কম্পাস’-এও তাকে দেখা গিয়েছিল ছোট কম্পাসের ভূমিকায়। খুব শীঘ্রই রাজন্যাকে আসন্ন ধারাবাহিক ‘সোহাগে আদরে’তে নায়িকার ছোট বোনের চরিত্রে দেখা যাবে।
নাচের প্রতি ছোটবেলা থেকেই ছিল তার প্রবল আগ্রহ। তার মা তাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর আগে সে ‘ডান্স ডান্স জুনিয়র’-এও অংশগ্রহণ করেছিল, যদিও সেবার তাকে এলিমিনেট হতে হয়। কিন্তু নাছোড়বান্দা ইচ্ছা আর নিষ্ঠা তাকে শেষ পর্যন্ত সেরার শিরোপা এনে দেয়। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর কঠিন পথ পেরিয়ে, এমনকি একবার বাদ পড়েও, সে শেষ অবধি সাফল্যের হাসি হেসেছিল।
অভিনয় জগতে আসা এবং আবেগঘন মুহূর্ত
ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজন্যা তার অভিনয় জগতে আসার গল্প বলেন। সে জানায়, নাচকে ভালোবাসলেও তাকে প্রথমবার টিভিতে দেখা যায় ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর একটি সানডে স্পেশাল এপিসোডে। এরপর ‘ডান্স ডান্স জুনিয়র’ হয়ে আসে ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চে। জয়ের মুহূর্ত স্মরণ করে রাজন্যা বলে, “আমি আর স্নেহাশ্রিতা জয়ী হই। ও আমার বন্ধু। আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলাম। ফাইনালের আগে আমাদের প্রতিদিন নাইট প্র্যাকটিস হত। খুব ভালো ছিল দিনগুলো।”
View this post on Instagram
স্কুল ও বাড়ির সহযোগিতা
নাচ এবং অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাপড়ার ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দারুণ সমর্থন করেছে। রাজন্যা জানায়, “স্কুল থেকে অনেকে আমার নাচ দেখতে এসেছিল। ওরা আমাকে খুব সাপোর্ট করে। লেখাপড়ার ব্যাপারেও স্কুল আমাকে খুব সাপোর্ট করে। হোমওয়ার্ক, ক্লাসওয়ার্ক মা খাতায় তুলে দিত, আমি পড়ে নিতাম। ফ্লোরে এসে পড়ার সময় পেতাম না। বাড়ি গিয়েই পড়তাম।”
অভিনেতা-অভিনেত্রী পছন্দের তালিকায় কার নাম? রাজন্যা এক মুহূর্তে না ভেবে উত্তর দেয়: “মিঠুন চক্রবর্তীর অভিনয় দেখতে ভালো লাগে। আর বাংলার নায়িকাদের মধ্যে আমার ফেভারিট শুভশ্রী ম্যাম। হিন্দিতে আলিয়া ভাট। তবে পুরনো দিনের কথা বলতে গেলে হেমা মালিনী আর মাধুরী দীক্ষিত। আমি মাধুরী দীক্ষিতের মতো অভিনেত্রী হতে চাই ওঁর নাচ এবং অভিনয় দুয়ের জন্যই।”
বাড়ির সমর্থন নিয়ে প্রথমে কিছুটা দ্বিধা ছিল। রাজন্যা জানায়, তার ঠাকুমা প্রথম দিকে নাতনির নাচ নিয়ে খুশি ছিলেন না। তবে এখন নাতনির সাফল্যে তিনি বেজায় খুশি, পাড়ার সকলকে নাতনির নাচ দেখার কথা বলে বেড়ান। রাজন্যার কথায়, মন দিয়ে চেষ্টা করলে সবই করা যায়, তাই পড়াশোনাটাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নাচ এবং অভিনয়কে সমান যত্নে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর এই কিশোরী তারকা।