‘চা বাগান শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে’, রাজ্যের বেহাল অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ শমীক ভট্টাচার্যের

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঙ্গলবার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চা বাগান সহ উত্তরবঙ্গ এবং রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক বেহাল অবস্থা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
উত্তরবঙ্গ ও চা বাগানের সমস্যা: শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী পরিকল্পনা ছাড়াই আটটি চা বাগান খুলে দেন, যা শ্রমিক, মালিক ও সরকার—এই তিন পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, এর ফলে, “চা পর্যটন’ নামে বাগানগুলিকে শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
স্বাস্থ্য ও বনজ সম্পদ: তিনি উদ্বেগের সঙ্গে জানান যে চা বাগান ও ফুলচাষের এলাকায় সাপের কামড়ে অনেক শ্রমিক মারা যাচ্ছেন, অথচ রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত প্রতিষেধক কিংবা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নেই।
অবৈধ কার্যকলাপ: উত্তরবঙ্গের বন্যায় নদীতে ভেসে আসা গাছের গুঁড়ি দেখিয়ে দিয়েছে অবৈধভাবে গাছ কাটার নমুনা। এছাড়া, নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে অবৈধ বালি খননের ফলে।
কৃষি ও সংরক্ষণ: উত্তরবঙ্গের আম ও অন্যান্য পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে হিমঘর না থাকায় বিপুল ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সেচযোগ্য জমি ও ধানকল বিতর্ক: রাজ্যের সেচ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করেন:
“পশ্চিমবঙ্গে সেচযোগ্য জমি মাত্র ৫৯.২১%, যেখানে উত্তরপ্রদেশে ৮৭%, হরিয়ানায় ৯৩%, মধ্যপ্রদেশে ৮১%।”
এছাড়াও, তিনি বর্ধমান জেলার কৃষি অর্থনীতির বিপর্যয় নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, “বর্ধমান জেলায় গত দু–তিন বছরে প্রায় একশোটি ধানকল বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যমান ধানকলগুলোর জমিতে আবাসন তৈরির পরিকল্পনা চলছে—যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অবৈধ দখলের অংশ।”
বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যগুলি রাজ্যের কৃষি, শ্রম এবং পরিবেশগত অব্যবস্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করে শাসকদলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াল।