‘NDA ৪১ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভোট কিনেছে!’ বিহার বিধানসভা ভোটে হারের দায় নিয়ে বিস্ফোরক প্রশান্ত কিশোর

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির শোচনীয় ব্যর্থতার পুরো দায় নিজের কাঁধে তুলে নিলেন দলের প্রধান প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। তবে এই ভরাডুবির কারণ হিসাবে তিনি ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর-কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বরং নীতীশ সরকারের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ভোট কেনার বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পাঁচ দিনের মাথায় সাংবাদিক বৈঠকে এসে প্রশান্ত কিশোর দাবি করেন, নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ হলো সরকারি অর্থের ব্যাপক ব্যবহার। তাঁর কথায়:
ভোট কেনার কৌশল: “এই প্রথম বিহার নির্বাচনে এমন ঘটল। জনগণের ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এনডিএ সরকার। আমার মনে হয়, এটাই এনডিএ-র জয়ের পিছনে একমাত্র কারণ।”
১০ হাজার টাকার ‘দান’: তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ঠিক আগে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ৬০ হাজারেরও বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।
২ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি: পিকে আরও বলেন, ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি স্বনির্ভর প্রকল্পে ১.৫ কোটি মহিলাদের প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিলে জেডি(ইউ) ২৫টার বেশি আসনে জয়ী হতে পারত না।
আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকার: নিজের দলের ব্যর্থতা স্বীকার করে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “আমাদের কোনও প্রার্থীই বিধানসভায় যাচ্ছেন না। জনাদেশ আমাদের বলছে, মানুষের মধ্যে যাও এবং সংগ্রাম করো।” যদিও তিনি একইসঙ্গে মন্তব্য করেন, “আপনি যতক্ষণ না ময়দান ছেড়ে যাচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত পরাজিত নন।”
পিকে স্বীকার করেন, “হ্যাঁ, আমি বিহারকে বুঝতে ভুল করেছি।” তিনি বলেন, নীতীশ কুমার এবং বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধরীরা যেভাবে জাতপাত-ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করেছেন এবং টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন, তা তিনি করতে পারেননি। তাঁর চ্যালেঞ্জ, “আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব, যদি এনডিএ সরকার আগামী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করে এবং ১.৫ কোটি মহিলাদের স্বর্নিভরতা প্রকল্পের আওতায় ২ লক্ষ টাকা করে দেয়।”