বিশেষ: এই ২ রাশিতে থাকে গণেশের কৃপা, বুধেরও প্রিয় জাতকদের হবে সুখ সমৃদ্ধি

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহরাজ বুধ-কে বাকশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তার কারক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যার জন্মছকে বুধ শক্তিশালী, তিনি হন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তীক্ষ্ণ এবং ব্যবসায় সাফল্য লাভ করেন। তবে দুর্বল বুধ কিন্তু সম্পর্ক এবং কেরিয়ারে সমস্যা সৃষ্টি করে। এই কারণেই জ্যোতিষীরা সব সময় বুধকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন— যার অন্যতম সেরা উপায় হল বিঘ্নহর্তা গণেশজির আরাধনা করা।
কিন্তু জ্যোতিষ মতে, এমন দুটি রাশি আছে, যাদের ওপর ‘বুদ্ধির দেবতা’ বুধের বিশেষ কৃপা জন্ম থেকেই থাকে। বুধের আশীর্বাদে এই রাশির জাতক-জাতিকারা জীবনে অবশ্যই ধনী হন এবং সাফল্যের শিখর ছুঁতে পারেন।
কে এই বুধ গ্রহ? বুধ গ্রহ হলেন মনের কারক চন্দ্র দেবতার পুত্র। বুধবার দিনটি বুধ দেবতাকে উৎসর্গীকৃত এবং তাঁর বীজমন্ত্র হল— “ওঁ বুং বুধায় নমঃ।” সবুজ রঙ বুধের শুভ রঙ এবং তিনি বাণিজ্যের হিতৈষী হিসেবে পরিচিত।
১. মিথুন রাশি (Gemini)
মিথুন রাশির অধিপতি গ্রহ স্বয়ং গ্রহদের রাজপুত্র বুধ। এই রাশির জাতক-জাতিকারা জন্ম থেকেই বুধের আশীর্বাদপ্রাপ্ত হন।
কেরিয়ার এবং অর্থ: যখন মিথুন রাশির বুধ শক্তিশালী হয়, তখন তারা ব্যবসায়ে বিপুল সাফল্য অর্জন করেন। মিথুন জাতকরা শুধু মিষ্টিভাষীই নন, তাদের বুদ্ধিও হয় অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। এদের অনেকেই চাকরি জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হন, তাই জ্যোতিষীরা তাদের ব্যবসা করার পরামর্শ দেন। তাদের সহজাত দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তারা জীবনে সহজেই প্রচুর অর্থ উপার্জনে সফল হন।
প্রতিকার: যদিও বুধের কৃপা থাকে, তবুও জন্মছকের যেকোনো ত্রুটির জন্য একজন যোগ্য জ্যোতিষীর সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিকার করা উচিত। বিশেষ করে প্রতি বুধবার গণেশজির আরাধনা করলে আরও বেশি সুফল মেলে।
২. কন্যা রাশি (Virgo)
জ্যোতিষীদের মতে, কন্যা রাশির জাতক-জাতিকারা স্বভাবগতভাবে ধার্মিক এবং দানশীল হন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধ গ্রহ কন্যা রাশিতে উচ্চস্থ বা সবথেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকে।
কেরিয়ার এবং অর্থ: এই কারণে কন্যা রাশির জাতকরা বাকের দেবতা বুধের অপরিমেয় এবং বিশেষ কৃপা লাভ করেন। তাঁদের কৃপায় এরা জীবনে চমৎকার ফলাফল অর্জন করেন। এদের দানশীল স্বভাবের জন্য এরা ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদও পান।
কন্যা রাশির জাতক-জাতিকারা সাধারণত স্বভাবগতভাবেই ব্যবসায়ী হন এবং চাকরিতে তাদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। যদিও কারও চাকরি থাকে, তবুও তারা প্রায়শই ৩৫ বছর বয়সের পর ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
জ্যোতিষীরা কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের পোশাক-সম্পর্কিত বাণিজ্যে সাফল্য লাভের পরামর্শ দেন। ব্যবসার কারণে কন্যা রাশির জাতকরা কখনও আর্থিক সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হন না।
Disclaimer: এই নিবন্ধের তথ্য সম্পূর্ণরূপে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস এবং সাধারণ উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।