সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তৎপর কলকাতা পুরনিগম, তৈরি হচ্ছে ধাপার চেয়ে বড় অত্যাধুনিক ডগপাউন্ড

দেশের সর্বোচ্চ আদালত পথকুকুরদের থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ। পুরনিগম সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শহরের ধাপা ডগপাউন্ডের থেকে অনেক বড় এবং অত্যাধুনিক একটি নতুন ডগপাউন্ড তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে, ফের বিভিন্ন এলাকায় শুরু করা হবে পথকুকুরদের নির্বীজকরণ ও টিকাকরণ কর্মসূচি।

কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ডের পথকুকুরদের টিকাকরণ করার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ধাপা ডগপাউন্ডে নির্বীজকরণ, অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসা ও টিকা দেওয়ার কাজ হলেও, এবার ওয়ার্ডের প্রতিটা পথকুকুরের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। এর জন্য প্রয়োজনে শিবিরের আয়োজন করা হবে।

পরিকাঠামো ও লোকবলের অভাব

কয়েক বছর আগের পুরনিগমের তথ্য অনুসারে, শহরে পথকুকুরের সংখ্যা ছিল ৮৪ হাজার। প্রজননের কারণে সেই সংখ্যা এখন কমবেশি আরও ১০ হাজার বৃদ্ধি পাওয়ায়, বর্তমানে শহরে পথকুকুরের সংখ্যা ৯৪ হাজারেরও বেশি।

তবে এই বিপুল সংখ্যক পথকুকুরকে টিকা দেওয়া ও নির্বীজকরণ করার কাজে স্বাস্থ্য বিভাগ পিছিয়ে আছে। এর অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও লোকবলের অভাব। একইসঙ্গে পথকুকুর ধরার গাড়িরও অভাব রয়েছে।

পুরনিগমের তথ্য অনুসারে, পথকুকুর ধরার জন্য ১৯ জন লোক থাকার কথা, কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৮ জন সেই কাজ করেন গোটা শহরে।

কুকুর ধরার গাড়িগুলো লরঝরে হয়ে পড়ায় আর ব্যবহার করা হয় না।

ধাপা ডগপাউন্ডে মাত্র ২৫০টি পথকুকুর রেখে চিকিৎসা করা সম্ভব।

নতুন ডগপাউন্ড তৈরি ও কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

সাম্প্রতিক আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড থেকে রেল স্টেশন—এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি আপাতত পথকুকুর মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে না। বরং নির্বীজকরণ ও টিকাকরণের মাধ্যমে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং রোগের বিস্তার রোধ করা হবে।

কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষকে যাতে পথকুকুরদের হাত থেকে নিরাপদ রাখা যায়। তবে বর্তমানে যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে কাজ করাটা খুবই চাপের। তাই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে শহরে নতুন ডগপাউন্ড তৈরি করা হবে, যার ক্ষমতা ধাপার থেকেও অনেক বেশি হবে। তার জন্য জমির খোঁজ শুরু করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, যতদিন না সেই বিষয়টি চূড়ান্ত হচ্ছে, ততদিন ওয়ার্ড ভিত্তিক শিবির করেই নির্বীজকরণ এবং টিকাকরণ করা হবে। পাশাপাশি, কুকুর ধরার লোক নিয়োগের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেক ফাঁকা পদগুলি পূরণের চেষ্টা চলছে।