উইঘুর যোদ্ধাদের নিয়ে চীন-সিরিয়া টানাপোড়েন! দামেস্ক কি বেইজিংয়ের হাতে ৪০০ জঙ্গিকে তুলে দিতে চলেছে?

চীনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ এখন আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে নয়, বরং সিরিয়ায়। কারণ সেখানে সক্রিয় উইঘুর যোদ্ধারা বেইজিংয়ের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথার কারণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, সিরিয়ার দামেস্ক সরকার এই উইঘুর যোদ্ধাদের চীনের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা গেছে। যদিও সিরিয়ার সরকারি সংস্থা পরে এই দাবিটি খারিজ করে দিয়েছে, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে শিরোনাম হয়েই চলেছে।
পুরো বিষয়টি কী?
সংবাদ সংস্থা এএফপি-র খবরে বলা হয়েছিল যে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি যখন প্রথমবারের মতো বেইজিং সফর করেন, তখন উইঘুর যোদ্ধাদের বিষয়টি তাঁর বৈঠকের একটি মূল বিষয় ছিল। সূত্র জানায়, চীন সরকারের অনুরোধে দামেস্ক এই যোদ্ধাদের দলে দলে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করছিল।
আরেকটি কূটনৈতিক সূত্র আরও দাবি করেছিল যে প্রায় ৪০০ উইঘুর যোদ্ধাকে শীঘ্রই চীনে পাঠানো হতে পারে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘সানা’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এএফপির এই প্রতিবেদনটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
উইঘুর যোদ্ধারা: চীনের পুরনো যন্ত্রণা
চীন দীর্ঘদিন ধরে জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের কিছু অংশকে চরমপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছে। ২০১১ সালের বিদ্রোহের পর এই উইঘুররা সিরিয়ায় আসে, বিশেষ করে তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টির (টিআইপি) অংশ হিসেবে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসআইএস-এর মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই উইঘুর যোদ্ধাদের বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জানা যায়, এই যোদ্ধারা ইদলিবে সক্রিয় ছিল এবং হায়াত তাহরির আল-শামের মতো ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে লড়াই করেছিল, যে জোট আসাদ সরকারকে উৎখাত করেছিল। মজার বিষয় হলো, আসাদ সরকারের পতনের প্রায় এক বছর পর, সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থী সরকার তার ‘জিহাদি অতীত’ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে দেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে, আর ঠিক তখনই এই উইঘুর হস্তান্তরের খবর সামনে এলো।