OMG! চালুর কয়েক মাস পরই ভেঙে পড়ল চীনের এই সেতু, উঠছে মারাত্মক প্রশ্ন

চীনের একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। গত ১১ নভেম্বর সিচুয়ান প্রদেশ ও তিব্বতকে সংযুক্তকারী জাতীয় মহাসড়কের অংশ শুয়াংজিয়াংকো হংকি সেতুটির (Shuangjingkou Hongqi Bridge) একটি অংশ ধসে পড়ে। এই দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর ভিডিও দ্রুত সব সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

🌉 ভয়াবহ ধস ও হতাহতের পরিস্থিতি

সৌভাগ্যবশত, সেতু ধসের একদিন আগেই সংলগ্ন রাস্তা ও ঢালে ফাটল দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ সেতুটি বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ধসের সময় সেতুটি ফাঁকা থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুরো সেতুটির দৈর্ঘ্য ছিল ২,৪৮৭ ফুট এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এর একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। মাত্র ১৯ মাসে তৈরি ৩৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত একটি প্রকল্পের অংশ ছিল হংকি সেতুটি।

চীনা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিকল্প রাস্তা তৈরি করলেও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সরকার এখনও নিশ্চিত নয় যে সেতুটি কবে নাগাদ আবার চালু করা সম্ভব হবে।

🔎 ধসের সম্ভাব্য কারণ: ভূমিকম্প নাকি বাঁধ?

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদিও এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ, স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, ভূমিধসের কারণ ‘ওই অংশের সেতুর রাস্তার ভিত্তি ও র‍্যাম্প ধসে পড়া’। তবে, এই ধসের পিছনে আরও কিছু সম্ভাব্য কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে:

  • তড়িঘড়ি নির্মাণ: ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, নদীর তীর থেকে ১,০০০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে দ্রুত গতিতে এই সেতু তৈরি হওয়ায় কিছু বিশেষজ্ঞ উদ্বিগ্ন ছিলেন।

  • নিকটবর্তী বাঁধ: কিছু মানুষ সেতুর কাছাকাছি থাকা জলবিদ্যুৎ বাঁধের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। ‘তিব্বত রিভিউ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেতুর কাছে ফাটল দেখা দেওয়ার কিছুদিন আগেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জলবিদ্যুৎ বাঁধ, নতুন শুয়াংজিয়াংকো বাঁধের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, এখন পর্যন্ত ধসের সঙ্গে বাঁধের প্রভাবের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য, হংকি সেতুটি সিচুয়ান অঞ্চলের সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় তৈরি হয়েছিল। ২০০৮ সালে এই অঞ্চলে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। ‘কেবল-স্টেড’ ডিজাইনের এই সেতুটি তৈরি করেছিল ‘সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ’, যেটির ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্যের সক্ষমতা থাকার কথা ছিল।

📜 সাম্প্রতিক ইতিহাসে সেতু ধস

 

পানির ওপর সেতু নির্মাণ সব সময়ই কঠিন কাজ। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই প্রথম এমন নাটকীয় সেতু ধসের ঘটনা নয়:

  • ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু, বাল্টিমোর (২০২৪): একটি পণ্যবাহী জাহাজের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে সেতুর প্রধান সাপোর্ট পিলারে আঘাত হানলে সেতুটি ভেঙে পড়ে, যাতে ৬ জন নির্মাণকর্মী নিহত হন।

  • মোরান্দি সেতু, জেনোয়া (২০১৮): ঝড়ের সময় এই সেতুটি মারাত্মকভাবে ধসে পড়লে ৪৩ জন নিহত হন। পরে সেতুর বয়স, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অন্যান্য বিষয়কে এর কারণ হিসাবে দায়ী করা হয়েছিল।