‘রামমোহনকে দালাল বলা অশিক্ষিতের কাজ!’ বিজেপি মন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ রামমোহন গবেষকের, ‘১৫০ বছর পরের ব্যক্তি কীভাবে আটকাবেন?’

মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিং পারমার সম্প্রতি রাজা রামমোহন রায়কে ‘ইংরেজদের দালাল’ এবং ‘ভুয়ো সমাজ সংস্কারক’ বলে কটাক্ষ করায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রামমোহন রায়ের ধর্মান্তকরণের চেষ্টা আটকে দিয়েছিলেন বীরসা মুণ্ডা। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হুগলির রামমোহন গবেষক দেবাশিস শেঠ বিজেপি মন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

দেবাশিস শেঠ বলেন, “এমন অশিক্ষিত কীভাবে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হলেন? রামমোহনকে নিয়ে স্পর্শকাতর মন্তব্যে আমরা মর্মাহত।” তিনি মন্ত্রীর ঐতিহাসিক জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “ইতিহাস বলে ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়েছে। বীরসা মুণ্ডার জন্ম হয়েছে ১৮৭৫ সালে। এইটুকু ধারণা যাঁর নেই, এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি আছেন কী করে?” তিনি স্পষ্ট জানান, রামমোহন আধুনিকতার আলো দেখিয়েছিলেন, অথচ সেই সময় কিছু মূর্খ মানুষ তাঁকে ব্রিটিশদের পক্ষপাতী বলে ভুল ব্যাখ্যা করেছিলেন—আড়াইশো বছর পরেও সেই প্রশ্ন উঠছে কেন?

ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে এই মন্তব্য বিজেপি-র জন্য অস্বস্তি বাড়িয়েছে। আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগ এর তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, “যিনি সতীদাহ প্রথার বিলুপ্ত ঘটিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তাঁকে ভুয়ো সমাজ সংস্কারক বলছেন বিজেপি মন্ত্রী। এটা রাজনৈতিক অসভ্যতার লক্ষণ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বাংলার নবজাগরণকে ছোট করা মানে দেশের নবজাগরণকে আঘাত করা।”

যদিও রাজনৈতিক ক্ষতি টের পেয়ে ইন্দর সিং পারমার তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়ে নেন। বঙ্গ বিজেপির নেতারাও অস্বস্তি কাটাতে নানা রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ এটিকে মন্ত্রীর “ব্যক্তিগত মতামত” বলে এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা তৃণমূলের বিরুদ্ধে “মিথ্যাচার” ও “ভুল ব্যাখ্যার” অভিযোগ এনেছেন।

তবে গবেষক ও রামমোহন প্রেমীরা এই বিতর্কে গভীরভাবে মর্মাহত। হুগলির খানাকুলে রামমোহনের জন্মস্থানে মাল্যদান ও প্রতিবাদ সভা করেছে রামমোহন মেমোরিয়াল ও কালচারাল অর্গানাইজেশন। তাদের মতে, এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য বাংলার নবজাগরণের পথিকৃৎকে অবমাননা করে।