SIR আতঙ্কে মৃত্যু! তৃণমূলকে পাল্টা তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী, মৃত ও অনুপ্রবেশকারী ভোটারদের বাঁচাতে মরিয়া শাসকদল!

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR – System for Internal Review) ইস্যু নিয়ে প্রথম থেকেই সরব রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআর আতঙ্কে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ তুলে তারা সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে নিশানা করছে। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর ইস্যু নিয়ে পাল্টা রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যথারীতি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন (PPT) ব্যবহার করে তিনি বোঝালেন, এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের এই ‘মাথাব্যথার’ মূল কারণ কী। একইসঙ্গে একাংশ বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-কেও নিশানা করলেন তিনি।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শুভেন্দু মূলত চারটি গুরুতর বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, মৃত ভোটার, ডুপ্লিকেট ভোটার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোট বাঁচিয়ে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতেই তৃণমূল এসআইআরের বিরোধিতা করছে। প্রেজেন্টেশনে তিনি মাল্টিপেল ডুপ্লিকেট ভোটার, মৃত ভোটার, একই বুথে ডবল ভোট এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভোটের বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। এরপরই তৃণমূলকে তীব্র খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের যন্ত্রণা ও ভেঙে পড়ার কারণ পরিষ্কার। এর কারণ মৃত ভোটার। সকালের পোশাক বদলে বিকেলে ভোট দেওয়া হয়।”

বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করে আসছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় এক কোটিরও বেশি নাম বাদ যাবে। এর মধ্যে মৃত ভোটার, মাল্টিপেল ডুপ্লিকেট ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারী রয়েছে জানিয়ে তিনি এদিনও বলেন, “২০০২ সালে ২৬ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। এবার আরও বেশি নাম বাদ যাবে। রাজ্য সরকার সাহায্য করলে আরও বেশি নাম বাদ যেত। এবার অন্তত ৮০ শতাংশ এসআইআর সফল হবে।”

এই প্রসঙ্গে তিনি ফের ভারতীয় মুসলিমদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি বলেন, “বিহারে অনেক রাষ্ট্রবাদী মুসলিম এনডিএ-কে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছেন। এখানেও আমরা রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের কাছে আবেদন করেছি। গরিষ্ঠ সংখ্যক ভারতীয় মুসলমানরা আমাদের ভোট না দিলেও আমরা বারবার বলেছি, এসআইআর নিয়ে ভারতীয় মুসলিমদের কোনও চিন্তা নেই।”

বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-দের বিরুদ্ধে ফর্ম না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠছে, সেই বিষয়ে তাঁদের সতর্ক করলেন বিরোধী দলনেতা। তিনি জানান, অভিযুক্ত বিএলও-দের বিরুদ্ধে তাঁরা নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাবেন এবং কমিশন যাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেই দাবিও জানানো হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একাংশ বিডিও-র সঙ্গে শাসকদলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের টিম প্রতিদিন দুপুরে বৈঠক করছে।

এদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস। এসএসসি-র একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফ্রেশাররা ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি বলে যে অভিযোগ রয়েছে, সেই বিষয়ে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি দেবেন না, এটা স্পষ্ট। যারা ফ্রেশার, তাদের ফর্ম ফিলাপের টাকা ফেরত দিতে হবে।”